অনেক সময় পিঠে খেতে ইচ্ছে করলেও ঝামেলার জন্য পিঠে বানাতে মন চায় না। একবার এভাবে পিঠে বানিয়ে দেখুন। এত সহজ মনে হবে ভাবতেই পারবেন না। শুধু একবার কাউকে বানিয়ে খাইয়ে দেখুন। এত প্রশংসা করবে নিজেরাও অবাক হয়ে যাবেন। কেউ খেয়ে বুঝতেই পারবেন না এটা কি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। হাতে অল্প সময় থাকলে ঝটপট তৈরি করে নিতে পারবেন। একদম নরম তুলতুলে একটা মুখে মিশে যাওয়ার মতন পিঠের রেসিপি। এভাবে পিঠে খেলে অন্যভাবে খেতেও ইচ্ছা হবে না। নমস্কার বন্ধুরা নতুন একটা পর্ব দেখার জন্য আপনাদের সকলকে স্বাগত জানাই। আজকে বানিয়ে দেখাবো দারুণ স্বাদের নরম তুলতুলে ক্ষীর পুলিপিঠে। এই পুলিপিঠে তৈরি করতে না লাগবে কোন রকমের আটা, ময়দা, সুজি, চালের গুঁড়ো বা কোন রকমের মাখা মাখি বা ডো বানানোর কোন ঝামেলাই থাকবে না। হাতে অল্প সময় থাকলে এই পিঠিটা বানিয়ে নিতে পারবেন। চলুন আশা করছি আজকের রেসিপি অনেক ভালো লাগবে। সবার প্রথমে এই পুলিপিঠের জন্য আগে ক্ষীরটা তৈরি করে নেব। কড়াইয়ে আমি হাফ লিটার নিয়ে নিচ্ছি দুধ। [সশব্দ হাসি] দুধটা এবারে জাল দিয়ে ঘন করে নেব। এখানে আমি 500 এমlল দুধ নিয়েছি। আর এই 500 এমlল দুধটাকে জাল দিয়ে 250 এমlল করে নেব। মানে অর্ধেক করে নেব। আর এদিকে দেখুন আমি অল্প একটু গোবিন্দভোগ চাল জলে ভিজিয়ে রেখেছিলাম। একটু আগে ভিজিয়ে রেখেছি। মোটামুটি 20 থেকে 25 মিনিট হয়ে গেছে। একটু আগে ভিজিয়ে রাখতে হবে। চালগুলো কিন্তু খুব সুন্দরভাবে ভিজে নরম হয়ে গেছে। এবারে একটা মিক্সিং জার নিয়েছি। জারে এই ভেজানো চালটা জল সমেত নিয়ে নেব। চালগুলো ভিজে যাওয়ার পর কিন্তু আমি একটু ভালো করে ধুয়ে নিয়েছিলাম। আমি এখানে গোবিন্দভোগ চাল নিয়েছি। আপনারা চাইলে কিন্তু যেকোন চাল নিতে পারেন। তবে একটু সুগন্ধি চাল নিলে গিয়ে ফ্লেভারটা খুব সুন্দর আসে। খেতে ভালো লাগে। এবারে ঢাকা লাগিয়ে ভালো করে মিক্সির মধ্যে আমি একটু ব্লেন্ড করে নেব। এই দেখুন এখানে আমি জল সমেত সুন্দরভাবে পেস্ট করে নিয়েছি। আর এদিকে দেখুন দুধটাও কিন্তু খুব সুন্দরভাবে ঘন হয়ে গেছে। এবারে মিক্সিতে করে রাখা চালের পেস্টটা নিয়ে নিচ্ছি। সাথে নিয়েছি দু চামচ গুড়ো দুধ। প্রথমে একটা হুইক্স দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নেব। আর এই দেখুন খুব সুন্দর কিন্তু একদম ক্রিমি ভাব এসে গেছে। দিয়ে দিচ্ছি দু চামচ চিনি। চিনি ভালো করে মিশিয়ে নেব। চিনিটা ভালোভাবে গলে যাওয়া পর্যন্ত এবার একটু রান্না করে নেব। খুব ভালো করে আমি একটুখানি চিনি দিয়েও রান্না করে নিয়েছি। এখন কিন্তু ক্ষীরটা একদম রেডি। অনেক বেশি আবার ঘন করা যাবে না। এতে করে ঠান্ডা হলে আরো বেশি ঘন হয়ে যাবে। এবারে গ্যাসের আচ থেকে নামিয়ে ক্ষীরটা ভালো করে ঠান্ডা করে নেব। আরে দেখুন ক্ষীরটা দেখতে কতটা লোভনীয় লাগছে। দারুণ লাগে এভাবে ক্ষীরটা বানালে। এবারে এদিকে আমি আরেকটা কড়াই বসিয়ে দিয়েছি। একটা পাতলা করে মালাই বানিয়ে নেব। এবারে মোটামুটি এক কাপের মতন আমি দুধ নিয়ে নিচ্ছি। 200 থেকে 250 গ্রাম। দুধটা একটু গরম করে নেব। আর আমি দুই থেকে তিনটি মতন এলাচ একটু মুখ ফাটিয়ে দিয়ে দিলাম। দুধটা এখানে সুন্দরভাবে একটু ফুটিয়ে নিয়েছি। চিনি দিচ্ছি অল্প একটু। অল্প একটু নিয়েছি গুড়ো দুধ। ভালো করে মিশিয়ে নেব। গুড়ো দুধটা দেয়ার কারণে একটু ঘন হবে মালাইটা। যদি না দিতে চান সেক্ষেত্রে দুধটা জাল করে একটু ঘন করে নেবেন। আবার কিন্তু খুব বেশি ঘন মালাইয়ের দরকার হবে না। গুঁড়ো দুধটা মিশিয়ে এক থেকে দুই মিনিটের জন্য একটু মিডিয়াম আচে ফুটিয়ে নিয়েছি। সুন্দরভাবে এখানে মালাইটা একদম রেডি করে নিয়েছি। এবারে আঁচ থেকে নামিয়ে মালাইটা সাইডে রেখে দেব। আর ভালো করে ঠান্ডা করে নেব। এবারে দেখুন এদিকে আমি নিয়েছি পাও রুটি। কয়েক পিস পাও রুটি ঘরে রয়ে গেছিল। খাওয়া হয়নি। তাই ভাবলাম আজকে এই পাুটি গুলো দিয়ে পিঠে বানিয়ে দেখাই। এই যে পাউটি সাইডের অংশগুলো আছে এগুলো একটু কেটে নিতে হবে। তো দেখুন সুন্দরভাবে কেটে নিয়েছি। এবারে পাওটির টুকরো গুলো একটা একটা করে নিয়ে চাকিতে বেলনি দিয়ে একটু বেলে নেব। এই দেখুন বেলনির সাহায্যে খুব সুন্দর করে একটু বেলে নিয়েছি। এবারে এদিকে যে আমি ক্ষীরটা তৈরি করে রেখেছি এখান থেকে অল্প একটু ক্ষীর নিয়ে নিচ্ছি। ক্ষীরটা বেশি খেতে পছন্দ করলে একটু বেশি করে দিতে হবে। আমি একটু নরমাল ভাবে দিচ্ছি না খুব বেশি কম না আবার খুব বেশি। একটা বাটি বসে এবারে একটু কেটে নেব। তো দেখুন সুন্দরভাবে কিন্তু একটা পুলি তৈরি হয়ে গেছে। তো ঠিক বাকিগুলো আমি একইভাবে রেডি করে নেব। তো সবগুলো পিঠে দেখুন এখানে আমি সুন্দরভাবে তৈরি করে নিয়েছি। আপনারা চাইলে কিন্তু আরো বেশি করেও বানাতে পারেন। পিঠেগুলো এবারে সার্ভ করে নেব। সাজিয়ে নিয়েছি একটা প্লেটে। আর এদিকে যে মালাইটা তৈরি করে রেখেছি মালাইটা কিন্তু ঠান্ডা হয়ে গেছে। এখান থেকে অল্প অল্প করে মালাই নিয়ে এই পিঠের উপরে এভাবে করে ছড়িয়ে দিচ্ছি। একদম সিম্পল আর সহজ একটা পিঠের রেসিপি। উপরে অল্প একটু বাদাম কুচি ছড়িয়ে দিলাম। রেডি হয়ে গেল দারুণ স্বাদের একদম নরম তুলতুলে একটা পিঠের রেসিপি। ঝটপট বানিয়ে দেখুন খেতে দারুন লাগে। অনেক সময় দেখবেন পিঠে খেতে ইচ্ছে করে কিন্তু সেরকম বানানোর মন থাকে না। একবার এভাবে বানিয়ে দেখুন এত সহজ মনে হবে ভাবতেই পারবেন না। ভেতরে যে খিরসাটা রয়েছে এই খিরসার কারণে একদম পিঠের মতনই খেতে লাগবে। বোঝাই যাবে না যে এটা পাওটি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। একদম নরম তুলতুলে মুখে দিতেই মিলিয়ে যাবে। তো বন্ধুরা আজকে এই পিঠের রেসিপি আপনাদের কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আর রেসিপি ভালো লাগলে চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব করে পাশে থাকার অনুরোধ রইল।


0 মন্তব্যসমূহ