নিরামিষ দিনে কি রান্না করবেন ভাবছেন? আর চিন্তা নেই। আজ আমি শেয়ার করব দুর্দান্ত টেস্টি সম্পূর্ণ নিরামিষ সোয়াবিনের অমলেট কারি। নমস্কার বন্ধুরা, আবারো একটি দারুণ স্বাদের রেসিপিতে সকলকে স্বাগত জানাই। চলুন তাহলে রেসিপিটা শুরু করা যাক। তো নিরামিশ সোয়াবিনের অমলেট কারি বানানোর জন্য প্রথমেই সোয়াবিন গুলিকে একটু সেদ্ধ করে নেব। তার জন্য একটা বাটিতে জল গরম করতে বসিয়ে দিয়েছি। আর জলটা বেশ গরম হয়ে ফুটে গেছে। এবার একটা 15 টাকা দামি মিনি সোয়াবিনের প্যাকেটের সব সোয়াবিন গুলি দিয়ে দিলাম। আর দিচ্ছি একটু লবণ। তো লবণ দিয়ে সোয়াবিনটাকে একটু সেদ্ধ করে নিলাম। এবার গ্যাস অফ করে সোয়াবিনটাকে দুই থেকে তিনবার জল পাল্টে পাল্টে ভালো করে ধুয়ে নিয়েছি। এবার জল থেকে সোয়াবিন গুলিকে হাত দিয়ে একটু চেপে চেপে অন্য একটা পাত্রে তুলে রাখছি। তো আমি সব সোয়াবিনগুলিকেই হাত দিয়ে ভালো করে চেপে চেপে জল থেকে তুলে নিয়েছি। তো আমি সোয়াবিনের মিনি চাংসটা নিয়েছি। তো আপনারা যদি নরমাল সোয়াবিনটা নেন মানে সোয়াবিনের যেগুলি বড় সাইজ হয় তাহলে এইভাবে হাত দিয়ে একটু ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নেবেন। আর আমি যেহেতু মিনি সোয়াবিনটা নিয়েছি তাই এইভাবে গোটা গোটাই রেখে দিলাম। আর নিয়েছি দুটি আলু সেদ্ধ। তো আলু দুটিকে আগে সেদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে নিয়েছি। এবার সেদ্ধ আলু দুটিকে হাত দিয়ে একটু ভেঙে ভেঙে নিচ্ছি। এবার সোয়াবিন ও আলু সেদ্ধটাকে একটা সাইডে সরিয়ে রাখছি। আর এখন একটা মসলা তৈরি করে নেব। তার জন্য একটা মিক্সিং জারের মধ্যে দিয়ে দিচ্ছি দুটি মাঝারি সাইজের টমেটো কুচি। দুটি কাঁচা ঙ্কা, এক ইঞ্চির মত আদা কুচি। আর দিচ্ছি একটু ধনেপাতার ডাটি গুলি। এবার সবকিছু মিক্সিং জারের মধ্যে দিয়ে দিচ্ছি। ভিডিওটি ভালো লাগলে চ্যানেলে নতুন বন্ধু হয়ে থাকলে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে পাশে থাকা বেল আইকনটি প্রেস করে দেয়ার অনুরোধ রইলো। তাহলে আমার দেয়া যেকোন ভিডিওর আপডেট সবার আগে আপনার কাছে পৌঁছে যাবে। এবার সামান্য একটু জল দিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করে নিয়েছি। এবার এই মসলার পেস্টটাকেও একটা সাইডে সরিয়ে রাখছি। এবার কড়ায় দিয়ে দিচ্ছি দুই চামচ সরষের তেল। তেল ভালো করে গরম হয়ে গেলে দিচ্ছি ফোরনে হাফ চামচ গোটা জিরে। তো ফোরনটাকে কয়েক সেকেন্ড নাড়াচাড়া করে ওতে দিচ্ছি টমেটো আদা কাঁচালঙ্কা ধনেপাতার ডাটি দিয়ে যে মসলার পেস্টটা তৈরি করেছিলাম সেই পেস্টের অর্ধেকটা আর অর্ধেকটা পরে রান্নায় কাজে লাগাবো আর দিচ্ছি স্বাদ অনুযায়ী লবণ হাফ চামচ হলুদ গুঁড়ো অল্প একটু ঝাল লঙ্কার গুঁড়ো ঝালটা আপনারা আপনাদের স্বাদ অনুযায়ী দেবেন হাফ চামচ জিরে গুঁড়ো হাফ চামচ ধনে গুঁড়ো এবার নেড়েচেড়ে মসলাটাকে ভালো করে কষিয়ে নেব যতক্ষণ না মসলা থেকে তেল ছেড়ে আসছে। তো মসলাটাকে খুব ভালো করে কষিয়ে নিয়েছি। আর মসলা থেকে তেলও ছেড়ে গেছে। এবার ওতে দিচ্ছি সেদ্ধ করে রাখা সোয়াবিন গুলি। এবার সোয়াবিন গুলি কেও মসলার সঙ্গে নেড়েচেড়ে কষিয়ে নেব। ভিডিওটি ভালো লাগলে অবশ্যই একটি লাইক করবেন। আপনাদের একটি লাইক আমাকে পরবর্তী ভিডিও বানাতে উৎসাহ জাগাবে। তো সোয়াবিন গুলিকেও বেশ ভালো করে মসলার সঙ্গে নেড়েচেড়ে ভেজে নিয়েছি। গ্যাসের ফ্লেমটাকে মিডিয়ামে রেখে এবার দিচ্ছি সেদ্ধ করে যে আলু দুটি হাত দিয়ে একটু ভেঙে ভেঙে রেখেছিলাম সেই সেদ্ধ আলু দুটি। তো এখানে আমি দুটি মিডিয়াম সাইজের আলু দিয়েছি। আর এই আলু সেদ্ধটা সোয়াবিনের সঙ্গে দিলে খেতেও টেস্টি হয়। আর এই সোয়াবিনের এই পুরটাতে একটু বাইন্ডিং এরও কাজ করবে। তো আমি কিন্তু খুব বেশি আলু দিইনি। একটু আলুটা কমই দিতে হবে যেন সোয়াবিনটা বেশি থাকে। সেইজন্য আলুটা একটু কমই দিয়েছি। জাস্ট একটু বাইন্ডিং এর জন্য। তো দেখুন আলু সেদ্ধটা দিয়ে এটাকে খুব ভালো করে নেড়েচেড়ে একটা পুর তৈরি করে নিতে হবে। তো এখানে আমার পুরটা কিন্তু রেডি হয়ে গেছে। এবার শেষে একটু গরম মসলার গুঁড়ো ও ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে নেড়েচেড়ে মিশিয়ে নিয়ে গ্যাস অফ করে পুরটাকে একটা অন্য পাত্রে নামিয়ে একটু ঠান্ডা করে নিতে হবে। তো পুরটা আমার রেডি হয়ে গেছে। এবার গ্যাস অফ করে এটা একটু ঠান্ডা হোক। ততক্ষণে পরবর্তী কাজটা ছেড়ে রাখি। চলুন। তো এখানে আমি একটা পাত্রে জল নিয়েছি। আর বড় সাইজের পাপড় নিয়েছি। আমি এখানে মসলা পাপড় নিয়েছি। তো আপনারা চাইলে প্লেন পাপড়টাও নিতে পারেন। আর যেই কটা অমলেট বানাবেন সেই কটা পাপড় নিতে হবে। তো পাপড়গুলিকে ভালো করে ভিজিয়ে নিয়ে একটা থালার মধ্যে তুলে রাখছি। তো সব পাপড়গুলি একসঙ্গে ভেজানো যাবে না। একসঙ্গে দুটো কি তিনটি পাপড় ভিজিয়ে নিতে হবে। কারণ একসঙ্গে বেশি পাপড় ভিজিয়ে নিলে একটার সঙ্গে আরেকটা জড়িয়ে যাবে। তখন ছাড়াতে প্রবলেম হবে। এবার একটা একটা ভিজিয়ে রাখা পাপড় নিয়ে তাতে সোয়াবিনের পুরটা দিয়ে দেব। আর পুরটাকে হাত দিয়ে একটু এভাবে সেট করে দেব একটু লম্বাভাবে। আর দুই সাইডটাকে পাপড়কে এইভাবে মুড়িয়ে দিতে হবে। দেখুন আমি যেইভাবে কাজটা করছি। এবার এই দুই মাথাটাকেও একটু মুড়িয়ে দিতে হবে। আর কোনদিক যদি মুড়তে একটু অসুবিধা হয় তাহলে হাত দিয়ে একটু জল লাগিয়ে এইভাবে মুড়ে দেবেন। তাহলে দেখবেন খুব সহজেই একটা অমলেটের শেপ নিয়ে নেবে। তো দেখুন দেখতেও কত সুন্দর লাগছে। তো আরো একটা আমি একই রকম ভাবে তৈরি করে দেখিয়ে দিচ্ছি। পুরটা ঠিক মাঝখানে দিতে হবে। তারপর হাত দিয়ে একটু লম্বা করে সেপ দিয়ে দেবেন। [মিউজিক] আর পাপড়ের দুই সাইড থেকে আগে একটু মুড়িয়ে নিয়ে তারপর দুই মাথা দুটি মুড়িয়ে দেবেন। আর মুড়তে একটু অসুবিধা হলে আঙ্গুলে একটু জল লাগিয়ে চেপে চেপে দেবেন। তাহলে খুব সুন্দরভাবেই আটকে যাবে। পুর বেরনোর কোন চান্সই থাকবে না। তো একই রকমভাবে আমি পাঁচটা অমলেট তৈরি করে নিয়েছি। [মিউজিক] আপনারা আপনাদের বাড়ির সদস্য অনুযায়ী অমলেটগুলি তৈরি করে নেবেন। এবার একটা ফ্রাইং প্যানে দিয়ে দিচ্ছি দুই চামচ সরসের তেল। খুব সামান্য তেলেই এটা ভেজে নেব। তো তেলটা গরম হয়ে গেলে একটা খুন্তি দিয়ে ফ্রাই প্যানের চারিদিকে ছড়িয়ে দিলাম। এবার একটা একটা করে সোয়াবিনের অমলেট ফ্রাই প্যানের মধ্যে দিয়ে দিচ্ছি। তো প্রথমে তিনটি অমলেট দিলাম। একেবারে তো সবগুলি ধরবে না। তো এই তিনটি ভাজা হয়ে গেলে আর যে দুটো আছে সেগুলো ভেজে নেব। বন্ধুরা এইভাবে যদি নিরামিষ অমলেট কারি বানিয়ে কাউকে দেন না খেলে কেউ বুঝতেই পারবে না এটা নিরামিষ অমলেট কারি বা ডিম ছাড়া তৈরি করা হয়েছে আর এটা খেতে কিন্তু দুর্দান্ত লাগে এটা ভাত রুটি পরোটা সবকিছুর সাথেই খেতে পারেন দারুণ লাগে আর যেহেতু পাপড় তাই ভাজতে কিন্তু খুব একটা বেশি সময় লাগবে না তো গ্যাসের ফ্লেমটাকে মিডিয়ামে রেখে দুই পিটটাই একটু লাল লাল ভেজে নিলাম। ভিডিওটি ভালো লাগলে প্রচুর প্রচুর শেয়ার করার অনুরোধ রইল। তো একই রকমভাবে সব অমলেট গুলিকেই ভেজে নিলাম। তো ভাজার পর দেখুন একদম অমলেটের মতোই দেখতে লাগছে। তাই না? এবার ওই তেলেতে দিচ্ছি হাফ চামচ গোটা জিরে ও একটা তেজপাতা। ফোরনটাকে কয়েক সেকেন্ড একটু নাড়াচাড়া করে ভেজে নিয়ে ওতে দিচ্ছি আদা, টমেটো, কাঁচালঙ্কা ও ধনেপাতা ডাটি দিয়ে যে মসলাটা রেডি করে রেখেছিলাম তার অর্ধেকটা তো সোয়াবিনের পুর তৈরিতে ব্যবহার করেছিলাম। আর যে অর্ধেকটা মসলা ছিল সেটা দিয়ে দিলাম। আর দিচ্ছি হাফ চামচ হলুদ গুঁড়ো, হাফ চামচ জিরে গুঁড়ো, হাফ চামচ ধনে গুঁড়ো। আর রান্নার রংটা যাতে ভালো হয় তার জন্য দিচ্ছি হাফ চামচ কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো। স্বাদ অনুযায়ী লবণ। মিক্সির জাত ধোয়া জল একটু দিয়ে দিলাম। আর এখানে আমি ঝাল লঙ্কার গুঁড়ো আর ব্যবহার করলাম না। আপনারা চাইলে ঝাল লঙ্কার গুঁড়ো দিতে পারেন। এবার মসলাটাকে ভালো করে কষিয়ে নিচ্ছি। আর দেখুন ঘরে থাকা সাধারণ
মসলা দিয়েই কিন্তু আমি রান্নাটা করছি। এবার গ্যাসের ফ্লেমটাকে একদম লোতে করে মিনিট দু এক সময় নিয়ে মসলাটাকে কষিয়ে নিলাম। তো মসলাটা ভালো করে কষিয়ে নিয়েছি। মসলা থেকে তেল ছেড়ে গেছে। এবার দিচ্ছি পরিমাণমত জল। এবার জলটাকে মসলার সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে আঁচটাকে হাই টু মিডিয়ামে রেখে ফুটিয়ে নিতে হবে তিন থেকে চার মিনিট সময় নিয়ে। কারণ অমলেটগুলি দেয়ার পর আর বেশি ফোটাবো না। এবার একটু গরম মসলার গুঁড়ো দিয়ে ঝোলের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে নিরামিশ সোয়াবিনের অমলেট গুলি এক এক করে দিয়ে দিচ্ছি। রেসিপিটি কেমন লাগলো কমেন্ট বক্সে জানাতে একেবারেই ভুলবেন না। এবার এই অমলেট গুলি দিয়ে মিনিট দু এক সময় নিয়ে অমলেট গুলিকে দুই পাঁচটায় উল্টে পাল্টে নিয়ে ফুটিয়ে নিচ্ছি। আঁচটা মিডিয়ামে রেখে আর বেশি ফোটাবো না। এবার শেষে একটু ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে মিশিয়ে নিয়ে গ্যাস অফ করে পরিবেশন করে দেব। এইভাবে নিরামিষ অমলেট কারি বানিয়ে যেকোন নিরামিষ দিনে বা আমিষ দিনে খুব সহজেই তৈরি করে নিতে পারেন। আশা করি ছোট থেকে বড় সকলেরই ভীষণ ভালো লাগবে। ভিডিওটি ভালো লাগলে লাইক, শেয়ার, কমেন্ট, সাবস্ক্রাইব করে পাশে থাকার অনুরোধ রইল।


0 মন্তব্যসমূহ