ওই আম্মা আজকে আমাকে নেমন্তন্য করে কি রান্না করেছো? >> আরে মাতবর তুমি এসেছো? আমি খুব খুশি হয়েছি। এসো এসো।
>> তোমার স্বামীর সাথে আমার পুরনো শত্রুতা ছিল। তুমি যে এসব ভুলে গিয়ে আমাকে নেমন্তন্য করেছো এতেই আমি আনন্দিত। >> আমি আর তোমাকে কি খাওয়াবো বাবা? আমি গরিব মানুষ। তবে আমি একটা জিনিস খুব ভালো রাখতে পারি। >> কি গো? >
মাছের লেজ ভাজা আর পান্তা। আমি বলি মাছের লেজ পান্তা। >> তুমি কি আমাকে মাছের লেজ পান্তা খাওয়ানোর জন্য ডেকে এনেছো? >> আমার যতটুকু সামর্থ্য আছে সেই অনুযায়ী তো করবো বাবা। >> আমি দেখতে পাচ্ছি তোমার থালা সাজানো ওই ছোট লোকের খাবার। তা তুমি ভাবলে কি করে আমি এ খাবার খাবো? >> বিশ্বাস করো খেতে খুব ভালো লাগবে। >> তুমি জানো যে আমি এই গ্রামের সবথেকে বড় মাছ ব্যবসায়ী। আর আমি মাছের লেজকে সবথেকে বেশি ঘৃণা করি। তাই কেটে ফেলে দিই। তুমি আমাকে সেই লেজের ভাজা করে খাওয়াবে বলে ডেকেছো। তার মানে তুমি আমাকে অপমান করতে চাইছো।
যদি মানসম্মানের কথা বলো তাহলে বলব যে আমার তোমাকে অপমান করার কোন ইচ্ছাই নেই। বরং তুমি আমাদের যা ক্ষতি করেছো তা কোনদিন পূরণ হবার নয়। >> তার মানে এখনো ভলোনি সেই পুরনো দিন। >> কি করে ভুলবো বলো? ওই সমস্ত ব্যবসা ছিল আমাদের মানুষটার। তুমি ছলনা করে কেড়ে নিয়েছো। তারপরেও আমি মানিয়ে নিয়ে তোমাকে নিমন্ত্রণ্য করেছি। তুমি বিশ্বাস করো তোমাকে অপমান করার কোন ইচ্ছে আমার নেই। >> মুখে ইচ্ছে নেই বললেও কাজে যখন ইচ্ছে প্রকাশ করছো তখন এই অপমানের বদলা নিতে আমি ছাড়বো না। >>
কিসের বদলা নেবে তুমি? কি ক্ষমতা আছে তোমার? অসৎ উপায়ে টাকা রোজগার করে গ্রামের মাতব্বর হয়ে বসেছো বলে আমাদের গরিব মানুষদের মানুষ বলে মনে করবে না তুমি। এর উত্তর আমি দেব খুব তাড়াতাড়ি। আর সেটা অত্যন্ত ভয়ানক হবে।
একটা কথা আছে জানিস তো ভাই সাপ দেখলেই তাকে মেরে ফেলতে হয়। না হলে একদিন সেই সাপের কামড় খেতে হয়। >> কেন? কি হয়েছে? >> যে হরিপদকে পথের ভিখিরি করেছিলাম। এত বড় সাহস তার বউ আমাকে এত বছর পর বাড়িতে নেমন্তন্য করে মাঝের লেজ দিয়ে পান্তা খাওয়াতে চায়। কি ভাবে আমাকে আমি পথের ভিকিরি? >> ওদের বাড়িতে যাওয়ার আগে ভাবা উচিত ছিল। >> আমি ভালো মনে গিয়েছিলাম বুড়ির কাছে। ভেবেছিলাম হয়তো শত্রুতা মিটিয়ে নিতে চায়। কিন্তু দেখলাম যে আমাকে ডেকে অপমান করাটাই ওদের আসল উদ্দেশ্য। ঠিক আছে কাঁটা দিয়ে কাটা তুলবো আমরা >> কিভাবে >> বুড়ির দুই ছেলের সাথে শত্রুতা আছে আপনি তাহলে বুড়ির পেছনে লাগুন আমি ওদেরকে হাতের মুঠইয় নিচ্ছি বাকি কাজ এমনিতেই হয়ে যাবে ঘরের সাথে ঘরের লড়াই হবে আমরা মজা দেখব >> যতদিন ছেলেগুলো আমাদের কাজে লাগবে ততদিন আমরা ব্যবহার করব তারপর ছুড়ে ফেলে দেব দুটোকে >> তাছাড়া আবার কি আমাদের কি কাজে লাগবে ওরা? শুধু ওদের ব্যবহার করে ওই বুড়িকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানোটাই আসল উদ্দেশ্য। লিচ পান্তা খাওয়াতে যায়। এত বড় সাহস। >> এই বুড়ি তোমার অনেক খেলা দেখেছি।
এবারে তোমার বাড়াবাড়ি করবার শেষ দিন। >> এই না বলেছিলে আমায় শাস্তি দেবে মাতব্বর। আবার আমার উঠনে কি করতে এসেছো? >> এসেছি তোমার খেলা শেষ করতে। এই গ্রামে আর থাকতে পারবে না তুমি। >> তুমি বোধহয় ভুলে যাচ্ছ যে শুধু অসৎ পথে পয়সা কামালেই গ্রামের দাদা হয়ে ওঠা যায় না। >> এই গ্রামের মানুষ আমাকে মাতব্বর বলে মানে। তাই যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং অধিকার আমার আছে। >> অধিকার তখন আছে যখন আমার কোন দোষ থাকবে।
আগে আমার দোষ প্রমাণ করো তারপরও অধিকার দেখাতে আসবে। আর তারপরও মেনে নেওয়া বা না নেওয়াটা আমার উপরে। >> তুমি ভুলে যাচ্ছো যে আমি মাছের ব্যবসা করি। রোজ কত মাছ বটি দিয়ে কেটে বাজারে বিক্রি করে দিই। একদিন ওই ধারালো বটি দিয়ে তোমার গলাটা কেটে দিলে কেউ জানতেও পারবে না। >> আর তুমি বোধহয় ভুলে যাচ্ছো এই গ্রামের সবথেকে বড় মাছ ব্যবসায়ীর বউ আমি। একসময় মাছ কাটতেও আমি জানতাম। তাই ভয় আমাকে না দেখিয়ে অন্য কাউকে দেখাবে। আর ভয় সে দেখাতে আসে যে নিজে ভয় পায়। >> তার মানে আমার কথা তুমি শুনবে না। >> তোমার কথা শোনা মানে এই গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়া। কি তাই তো? তোমার কি করার ক্ষমতা আছে? করে নিও। এই গ্রাম থেকে আমি নড়ছি না। একবার হেরে গেছি। তা বলে আর হারবো না। >> বেশ ঠিক আছে। সোজা আঙ্গুলে যদি ঘি না উঠে তাহলে আঙ্গুল বাঁকা করতেও আমার জানা আছে।
এবার তুমি দেখো শুধু আমি কি করতে পারি। >> কি ভাই কাঞ্চন অতুল তোমাদের মাঠে তো দেখছি মানে একেবারে ভালো ফসল হয়নি। >> আরে মানিকদা যে তা কি মনে করে নিজের গ্রাম ছেড়ে আজকেই এই দুঃখীদের গ্রামে। >> অনেকদিন ভাবলাম তোমাদের সাথে দেখা হয় না তাই দেখা করতে এলাম। কি আর দেখা করবে বলো? অবস্থা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। >> সে তো দেখতেই পাচ্ছি। সকাল থেকে খেটে খেটে তো চোখ মুখ একেবারে কালো হয়ে গেছে। এদিকে মাঠে তো ফসল কিছুই নেই। পেট চলছে কি করে? >> তুমি জিজ্ঞেস করলে তাই বলছি। চলছে না গো চলছে না। ঘরের বউ আছে ছোট ভাইটাকে নিয়ে কোন রকমের দিন কাটাচ্ছি। একেবারে না খেয়েই আছি বলতে পারো। >> খবর আমি পেয়েছিলাম। তোমাদের গ্রামের অবস্থা খারাপ। এবার গরমে তাই তোমাদের জন্য একটা ভালো উপায় নিয়ে এসেছি। >> কি উপায়? >> দেখো তবু তুমি পর হয়ে এত দূরে আমাদের জন্য ভাবতে এসেছো। আর ওই গ্রামে আমার নিজের মা থাকে সে কোনদিন খোঁজ নিতেই এলো না। >> সেই জন্যই তো এসেছি তোমার কাছে। আসলে নাজিম আমাকে পাঠিয়েছে। তোমাদের দুজনকে ওর মাছের আরতে কাজ দেবে বলে মোটা মাইনের। অথচ তোমার মা চায় না যে তোমাদের একটা ভালো কাজ হোক। আবার শুধু তাই নয় মিয়া ভাইয়ের মানে মাছের ব্যবসাটাও বন্ধ করে দিতে চাইছে চুগলিবাজি করে। এখন নিজে ভেবে দেখো নিজেদের পেট চালাবে না বোকা মায়ের পেছনে হাওয়া দেবে। হ্যাঁ। >> তোকে বলেছিলাম না অতুল মা সবসময় এরকম বোকামিয়ে কিছু না কিছু একটা করে। >> এই জন্যই তো মায়ের কাছে থাকি না।
একা এত দূরে চলে এসেছি। দেখো আমার বেশিক্ষণ দাঁড়ানোর সময় নেই। আমাকে তাড়াতাড়ি বলো কি করবে তোমরা? সেই অনুযায়ী ফিরে গিয়ে আমাকে ব্যবসা করতে হবে। >> নাজিম ভাইকে বলে দাও যে আমরা কাজে যোগদান করতে চাই। >> যা বলছো ভেবে বলছো তো। এরপর কিন্তু তোমার মায়ের সাথে তোমাদের ঝামেলা হতে পারে। >> যার সাথে ঝামেলা হোক আমরা ভয় পাই না। মা হয়ে ছেলেদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারেন আবার বড় বড় কথা। নাজিম ভাই যা বলবে আমরা তাই শুনবো। এখন থেকে উনি আমাদের মালিক। >> ঠিক আছে তোমরা নিশ্চিন্তে থাকো। তোমাদের বড় লোক হওয়া এখন থেকে আর কেউ আটকাতে পারবে না। [মিউজিক] >> ও মা আমার কি সৌভাগ্য। তোরা এতদিন পরে এসেছিস বাবা আমাকে দেখতে। >> তুমি ভুল ভাবছো মা। আমরা তোমাকে দেখতে আসিনি। >> ও আচ্ছা এতদিন পরে এসেছিস তো তাই ভাবলাম। >> তোমার ভাবনা তো অনেক দূর। তোমার ভাবনা নিয়ে তো আর বসে থাকলে হবে না। আমাদের পেট চালাতে হবে। >> তোমাকে একটা পরিষ্কার কথা বলতে এসেছি। যদি আমাদের ভালো চাও তাহলে এ গ্রাম থেকে চলে যাও। >> এত বছর পর বুড়ো মাকে তোরা এসব কথা বলতে এসেছিস। >
> বুড়ো মাও তো এত বছরে খোঁজ নেয়। নিজের সন্তানেরা বেঁচে আছে কিনা। >> আমি চেয়েছিলাম তোরা একই সংসারে থেকে বিয়ে শাদী করে সুখে থাক। কিন্তু নিজেদের দায়িত্বে যখন চলে গেছিস তখন নিজেদের ভালোমন্দটা দেখার দায়িত্ব তোদেরই। আর আমি বুড়ো বয়সে কিভাবে তোদের গ্রামে যাব? আমি নিজে খেতে পারি না। তোদের কি উপকারটাই এবা করতে পারি আমি। >> সেজন্যই বলছি আমাদের শেষ উপকারটা করো। এই গ্রাম ছেড়ে চলে যাও।
তুমি গ্রাম ছেড়ে গেলে তবে আমরা নাজিম ভাইয়ের কাছে কাজ পাবো। >> আচ্ছা বুঝেছি ওই শয়তান আমাকে কিছু করতে না পেরে এখন ভাঙ্গা সংসারে আরো বেশি করে ভাঙ্গন ধরাতে চাইছে। ভাবছি এতে আমাকে শিক্ষা দিতে পারবে। >> দেখো মা তোমার জেদ আমরা জানি। কিন্তু আমাদের জেদ এবারে তুমি দেখবে। আমরা দুদিন পরে আবার আসবো। এই দুদিনের মধ্যে যদি তুমি এই বাড়ি ছেড়ে চলে না যাও তাহলে আমরা তোমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব। কারণ আমাদের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য নিজেদের পেট পালন করা। তোমার প্রতি কোন অনুভূতি আর আমাদের নেয়। >> আজকে তোদের মুখ থেকে এই কথাটা শোনার জন্যই কি তোদের জন্ম দিয়েছিলাম? >> তোমার ওসব নাটকের কথা রাখো। যেটা বলছি সেটা যদি না হয় তাহলে আমরা দুজনে এসে তোমার গলায় পা তুলে দেব। কথাটা মনে রেখো।
>> একি মা আপনি এসেছেন আমাদের হাটে। এত দূরে আসতে গেলেন কেন কষ্ট করে? আপনার ছেলেরা গিয়েছে তো। >> সেজন্যই তো বেশি করে আসতে হলো বৌমা। >> মানে কিছু হয়েছে। ছেলেদের জন্ম দিয়েছিলাম ছেলেরা বড় হয়ে বুড়ো বাপ মায়ের খেয়াল রাখবে বলে। বাপ তো আগেই গেছে। মা বেঁচে আছে তাকেও ঘর থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়। আপনার কি ঘর থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়? মানে কি বলছেন? অবাক হওয়ার কিছু নেই বৌমা। আমার ছেলেরা এরকমই কুলাঙ্গার। প্রথমত তোমার শ্বশুর মশাইয়ের দেখে যাওয়া সত্যতার পথ তাদের পছন্দ নয়। তাই আমার ঘর ছেড়ে এখানে এই গ্রামে এসে থেকেছে। আর বড় ছেলে তোমাকে বিয়ে করেছে। আর এখন এখন তোমার শ্বশুরকে যে বিকেলে বানিয়েছিল সেই নজিমার সাথে শয়তানিতে পেরে উঠতে না পেরে কাঞ্চনার অতুলকে হাত করেছে ওরা বুঝতেও পারছে না যে ওদেরকে ব্যবহার করছে আর ওরা দুজন বোকার মতো আপনাকে অপমান করেছে তাই তো আমার বড় ছেলে মানে তোমার বর আমাকে স্পষ্ট বলে এসেছে আমি যদি দুদিনের মধ্যে বাড়ি থেকে চলে না যাই তাহলে নাকি আমার গলায় পা তুলে দেবে। >> কি বলছেন কি আপনি? ছি ছি ছি এসব কথা তো শোনাও পাপ। শুনুন মা।
আমি একটা কথা বলছি। ওরা যাই করুক ওই শয়তানদের সাথে আমাদের কোন যোগাযোগ নেই। আমি আপনার সাথে সততার পথে থাকবো। তারপর দেখবো কাদের জয় হয়। সেজন্যই আমি তোমার কাছে এসেছিলাম পুরো ব্যাপারটা জানাতে। কারণ আমি জানি যে আমার ছেলে খারাপ হলেও বৌমা ভালো। ঠিক আছে আমি আজকেই গিয়ে কিছু একটা ব্যবস্থা করছি।
মনে হচ্ছে এবারে আমাদের অভাবে থাকতে হবে না। একটা উপায় ঠিক বের করে ফেলেছি জানো তো? >> তোমার উপায়ের মাথায় মোড় ঝাটামারি। >> মানে কি পাগলের মতো বলছো। >> তুমি আমাকে কি বলবে? আমি সব জানি। মা আমাকে সব বলেছে। তুমি তোমার বাবার শত্রুর সাথে দল পাকিয়ে পয়সা রোজগার করার জন্য মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে চাও।
>> দেখো আমাকে বেশি জ্ঞান দিতে এসো না। তোমাকে যে ভালো করে খাইয়ে দাইয়ে রাখছি এটাই তোমার জন্য অনেক। >> তুমি কি মনে করো আমি ভিখারী? যে দু মুঠো ভিক্ষা দিয়েই আমাকে কিনে নিতে পারবে? >> অতই যখন দেমাগ তখন বেরিয়ে যাও আমার বাড়ি থেকে। যাও। >> যেটা বলছো সেটা ভেবে বলছো তো। হ্যারে হ্যাঁ মেয়ে ছেলে তোরা সব মেয়েগুলোই শয়তান থাক তোরা এই অবস্থায় না খেতে পেয়ে আমরা আমাদেরটা বুঝে নেব এখন যা দূর হয় এই বাড়ি থেকে যা >> নিজের বউকে অন্ধকারে রাস্তায় বার করে দেওয়ার আগেও তুমি ভাবছো না >> ভাবছি না আর ভাববো না চল পোট >> নাজিম ভাই পরিস্থিতি গম্ভীর হতে চলেছে >> গম্ভীর আবার কি আমি মাকে তাড়িয়ে দিতে চাই য়েছিলাম তাই বউ আমার ঘর ছেড়ে চলে এসেছে।
আরে শোনো শোনো ওসব ওদের কথা বাদ দাও। ওরা ওরকমই। ঠিক আছে। পায়ের কাছে সবসময় নর করতে থাকে। একটা গেছে তো চিন্তা কি আরেকটা আসবে। কিন্তু ভাবো তোমার কাজ চলে গেলে কি আর কাজ পাবে? দাদা আমার কি মনে হয়? আমাদের ছেড়ে যারা চলে গেছে তাদের কথা ভাববার থেকে কাজের কথাটা ভাবা বেশি জরুরি। নাজিম ভাই ঠিক কথাই বলেছে। এইতো ছোট ভাই বুঝতে পেরেছে তোমার উন্নতি হবে অতুল >> আমার মনে হচ্ছে মেয়েগুলো কিছু একটা ষড়যন্ত্র করতে পারে তাই আমাদের ছেলেদের একটা দল পাকিয়ে থাকা উচিত যার সিদ্ধান্ত হবে সব এক জায়গায় হবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হবে ঠিক আছে তাই হোক এখন থেকে আমরা একটা দল আর আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে শুধু তোমার এই বুড়ি মাকে গ্রাম থেকে তাড়ানো নয় সমস্ত মহিলা সমাজকে কে পায়ের নিচে রাখা।
না হলে কোনদিন আমাদের উন্নতি সম্ভব নয়। নাজিম ভাই আমাদের দলপতি। ভাইজান যা বলবে আমরা তাই শুনে চলবো। তুমি শুধু আদেশ দেবে আমরা কাজ করব। >> এ কি বৌমা? তুমি এ অবস্থায় এখানে কেন? কি হয়েছে তোমার? যা হবার ছিল তাই হয়েছে মা। আমার কুলাঙ্গা ছেলে নিশ্চয়ই তোমার সাথে কিছু করেছে। আমি ওকে সত্যি কথাটা বলতে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম একটু মনুষ্যত্ব ওর মধ্যে এখনো হয়তো বেঁচে আছে। কিন্তু দেখলাম একেবারে নিচের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে।
রাতের বেলায় আমাকে মারতে মারতে ঘর থেকে বার করে দিয়েছে। কি বললে? এত বড় সাহস। হ্যা। আমি কোনদিন ভাবতে পারিনি যে এমনটাও করতে পারে। আমরা অনেক কিছুই ভাবতে পারি না বৌমা। তবে চিন্তা করো না। একদিন তোমার কপালে সুখ ফিরে আসবে। ওই নাজিম শয়তানটার পতন হলেই ওরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারবে।
আর তার জন্য নাজিমকে শাস্তি দিতে হবে। আর সেটা আমরা তখনই পারবো যখন আমরা একসাথে থাকবো। কারণ ওরা ছেলেরা একটা দল পাকিয়েছে। আর ওদের দলের পান্ডা হচ্ছে ওই শয়তান। আর ওরাও চেনে না এই ললিতা বুড়িকে। ওদের কবরে পেরেক পোতার জন্য আমরা দুজনেই যথেষ্ট। ঠিক বলেছেন। আমি আর কান্নাকাটি করবো না। এখন থেকে আমরা মা মেয়ে লড়াই করব। সত্যির জন্য লড়াই করব। আর আমাদের বড়লোক হওয়াটাও একটা উপায় ভাবতে হবে।
তবেই আমরা নজিবের মুখোমুখি দাঁড়াতে পারব। তুমি ভাবনা চিন্তা করো। যেটা ভাববে তুমি সেটাই করব। এখন এসো তুমি আমার বাড়িতে। বৌমা। তুমি প্রথমবার এসেছো। ঘরের ভিতরে এসো। [মিউজিক] তোমার হাতের পান্তায় তো জাদু আছে মা। এর সাথে যদি তোমাকে মাছের লেজ খাওয়াতে পারতাম তাহলে তো তুমি আর ভুলতেই পারতে না। তাহলে উপায় পেয়ে গেছি। কি উপায়? আমাদের মাছের ব্যবসা ছিনিয়ে নিয়েছিল ওই শয়তান। কিন্তু ওই মাছ বিক্রি করলেও মাছের লেজ ফেলে দেয়। সেইসব টাটকা লেজ যদি আমরা নিয়ে এসে লেজ পান্তা করে বিক্রি করতে পারি তাহলে চারিদিকে আমাদের সুনাম ছড়িয়ে পড়বে আর আমরা বড় লোক হতে পারব তুমি তো ঠিকই বলেছো এটা তো আমি কোনদিন ভাবিনি একমাত্র এই পথে আমরা নজিমের সমান সমান হয়ে উঠতে পারব তখন ওরাও আমাদের ভয় পেতে বাধ্য কারণ আমাদের পাশে মানুষজন থাকবে আর মানুষ বুঝতে পারবে যে কে কিরকম ভাবে ঠকাচ্ছে বেশি দাম নিয়ে ওই শয়তানটা। আমরা পুরুষ মানুষের শয়তানের মুখোষটা টেনে খুলে দেব। এটাই একমাত্র উপায় আমার ছেলেদের বাঁচানোর। না হলে ওদের কপালে ভয়ানক দুঃখ আছে। ঠিক আছে। কাল থেকেই আমি ব্যবস্থা করছি। মা তুমি একা নাও। আমিও তোমার পাশে আছি। ঠিক আছে। এখন তাড়াতাড়ি খাওয়া-দাওয়া করে নি। চলো। খুব খিদে পেয়েছে। হ্যাঁ। এমন সুস্বাধু পান্তা আমারও ফেলে রাখতে ইচ্ছে করছে না।
>> বাহ এত সুন্দর এত সস্তা খাবার তো এর আগে কোনদিন খাইনি। >> এটা হচ্ছে শাশুড়ি বউয়ের লেজপান্তা। সবথেকে সস্তা সবথেকে সুন্দর। >> এই প্রথমবারে আমাদের চোখ খুলে গেল। এত সস্তায় এত সুন্দর খাবার খেয়ে। এবারে বুঝতে পারছি যে যে আরদার নাজিম আমাদের কিভাবে ঠকায়। >> এর থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হচ্ছে তোমরা বয়কট করো নজিমকে। >> আমরা কেউ আর ওর থেকে মাছ নেবো না। তোমার থেকে লেজ পান্তা নিয়ে তোমাদেরকে বড় লোক করে দেব। আর তোমরা মাছের ব্যবসা শুরু করবে আবার। তোমরা যদি আমাদের থেকে রোজ কিনতে থাকো তাহলে আমাদের আর নজিমের ভরসা থাকতে হবে না। শহর থেকে আমরা মাছ এনে বিক্রি করব। আর লেজ দিয়ে পান্তা বানিয়ে তোমাদের খাওয়াবো।
মাছ আর লেজ পান্তা দুটোই সস্তায় পাওয়া যাবে। >> আমরা আর নাজিমকে চাই না। ওর শাস্তি চাই। আর তোমাদের উন্নতি চাই। >> দেখেছো মা আমরা যেটা চাইছিলাম সেটাই হতে চলেছে। শয়তান নুজিমের দিন গনিয়ে এসেছে। এবার ওর মরণের ডঙ্কা বাজছে। >> আমাদের গরীবের টাকা শোষণ করে বড় লোক হয়েছে ওই শয়তান।
প্রত্যেক ইঞ্চিতে আমরা বদলা নেব। আমরা আক্রমণ করব ওর বাড়ি। তারপর ওকে শাস্তি দেব। >> নজিম এক্ষুনি যদি তুমি বাইরে বেরিয়ে না আসো তাহলে আমরা সবাই তোমার বাড়িতে আক্রমণ করব। আর তোমাকে মারতে মারতে টেনে বার করব। তোমরা কি চাও? আমাদেরকে পচা মাছ খাইয়ে বেশি টাকা রোজগার করেছো তুমি এতদিন এর বিচার চাই। আমাদের সব টাকা ফেরত দিতে হবে এক্ষুনি। না হলে তোমাকে এখানেই শেষ করে দেব। >> আমি তোমাদের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইছি। ভুল হয়ে গেছে আমার। >> এতদিন নিজের পয়সা আর ক্ষমতার জোরে সবাইকে বোকা বানিয়েছো। মেয়েদের অসম্মান করেছো। এবার দেখো তোমার কি হয়। এখন আর চোখের জলে চিড়ে ভিজবে না। এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে তোমার। তুমি যদি তোমার সিদ্ধান্ত না জানাও তাহলে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবো। >> আমাকে তোমরা ক্ষমা করে দাও। আমি এসবের মধ্যে ছিলাম না। >> একেই বলে চোরের সাক্ষী বাটপার। শাস্তি হলে দুজনেরই হবে। দুজনেই সমান। >
> আমি আমি তোমাদের সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমার যা শুধু ধনসম্পত্তি আছে সব তোমরা ভাগ করে নাও কিন্তু আমাদের প্রাণে বাঁচিয়ে দাও। >> তাহলে তোমাদের এই মুহূর্তে এই গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে। আর কোনদিন এখানে ফিরে আসবে না। যাওয়ার সময় নিজেদের সব অপরাধ স্বীকার করে যাবে। >> অহংকারের বসে আমি সম্মানীয় হরিপদ বাবুর মাছের ব্যবসাকে অধিকার করেছিলাম। তোমাদের সংসারে বিভেদ সৃষ্টি করেছিলাম ছেলেদের ভুল বুঝিয়ে। বাবা আমাকে ক্ষমা করে দাও তোমরা আমরা। আমরা দুজন মিলে চলে যাচ্ছি। >>
আমাকেও মেরো না প্রাণে। আমিও বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি আর কোনদিন আসবো না তোমাদের কাছে। ওরে বাবা। >> আর তোমাদের দেখতে চাই না। এই মুহূর্তে চলে যাও। >> আমরা এসেছি তোমাদের কাছে। বড় দেরি হয়ে গেল। তবে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছি। আর কোনদিন আমরা এমন ভুল করবো না। ক্ষমা করে দাও আমাদের। আমি মা হিসেবে ক্ষমা করতে পারি তোকে। তবে তুই নিজের বউয়ের উপর যে অত্যাচার করেছিস সেটা কোনদিন ক্ষমার যোগ্য নয়।
> বৌদি ছোট ভাইয়ের কথা শোনো। জীবনের সবার অপরাধ তো ক্ষমা করে দেওয়া যায়। একটিবার হলেও এই শেষবারের মতো তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। >> আমরা জানতাম তোমরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারবে। আর ঠিক এই দিনটার অপেক্ষায় করছিলাম আমরা। তোমরা আসবে বলে আজকে আমরা ঘরোয়া বিশেষ মাছের লেজ আর পান্তা বানিয়েছি। তাড়াতাড়ি খেতে এসো। বসো। >> আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। >> কি সিদ্ধান্ত? আমরা দুজনে মিলে বাবার ওই পুরনো মাছের ব্যবসাটা। যেটা নাজিম আর মানিক ফেলে গেল সেটাই ভালো করে করব। মা আর নীলিমা করবে মাছের লেজ আর পান্তার ব্যবসা। এভাবেই চলবে। আর আর আমরা সৎপথে সুখে পয়সা কামিয়ে জীবন কাটাতে পারবো। >> এই উন্নতির বুদ্ধিটাই যে দিনের শেষে তোর মাথায় ঢুকেছে এতেই আমি খুশি। বাবা যেখানেই থাকুক ছেলেদের এই উন্নতি দেখে নিশ্চয়ই খুশি হবেন। অনেক কষ্ট গেছে সারাজীবন। তবে শেষ জীবনে এটুকু সুখ কপালে এসেছে এটাই অনেক। এটাই হচ্ছে আসল কথা। আর আমরা পুরনো বাড়িতে ফিরে যাবো না। এখানেই সবাই একসাথে থাকবো। >> আরে তল্লাটে যত গ্রাম আছে এ গ্রাম ছাড়িয়ে শহরে চলে যাবে আমাদের ব্যবসার নাম। আমরা গোটা একটা পরিবার হয়ে মিলে মিশে থাকবো। >> আর কারোর কোনদিন ক্ষতি করবো না গো। >> তোমরাও সারাজীবন এরকম ভাবেই মিলে মিশে থেকো। আর আমাদের মত ভালো ভালো গল্প শুনতে তোমরা চ্যানেলটা সাবস্ক্রাইব করো।
মাছের লেজ সুস্বাদুভাবে রান্না করার সহজ উপায়
মাছের লেজে সাধারণত স্বাদ বেশি থাকে এবং সঠিকভাবে রান্না করলে এটি খুব মজাদার হয়।
উপকরণ
* মাছের লেজ ৪–৬ টুকরা
* হলুদ গুঁড়ো ½ চা চামচ
* লাল মরিচ গুঁড়ো ½ চা চামচ
* লবণ স্বাদমতো
* পেঁয়াজ কুচি ১টি
* রসুন বাটা ১ চা চামচ
* টমেটো ১টি (ঐচ্ছিক)
* সরিষার তেল বা ভোজ্য তেল ২–৩ টেবিল চামচ
রান্নার পদ্ধতি
1. মাছের লেজ ভালোভাবে ধুয়ে লবণ ও হলুদ মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন।
2. কড়াইয়ে তেল গরম করে মাছের লেজ হালকা ভেজে তুলে রাখুন।
3. একই তেলে পেঁয়াজ ভেজে রসুন, মরিচ ও অন্যান্য মসলা দিন।
4. মসলা কষে গেলে সামান্য পানি যোগ করুন।
5. এবার মাছের লেজ দিয়ে ৫–১০ মিনিট রান্না করুন।
6. ঝোল শুকিয়ে এলে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
পরিবেশন
গরম ভাত, খিচুড়ি বা রুটির সঙ্গে মাছের লেজের এই পদ পরিবেশন করা যায়।
FAQ
মাছের লেজ কি আলাদা করে রান্না করা যায়?
হ্যাঁ, মাছের লেজ আলাদা করে ভুনা, ঝোল বা ভাজা হিসেবে রান্না করা যায়।
কোন মাছের লেজ সবচেয়ে সুস্বাদু?
রুই, কাতলা, বোয়াল ও ইলিশের লেজ অনেকের কাছে বিশেষভাবে পছন্দের।
মাছের লেজ ভাজার সময় কী খেয়াল রাখতে হবে?
অতিরিক্ত ভাজা উচিত নয়, তাহলে শক্ত হয়ে যেতে পারে।
মাছের লেজে কি বেশি কাঁটা থাকে?
মাছের ধরন অনুযায়ী কাঁটার পরিমাণ ভিন্ন হয়, তাই খাওয়ার সময় সতর্ক থাকা ভালো।
মাছের লেজ সঠিক মসলা ও পরিমিত আঁচে রান্না করলে এটি একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার হয়ে ওঠে।
পান্তা ভাতের সহজ রেসিপি
পান্তা ভাত বাংলা সংস্কৃতির একটি জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিশেষ করে গরমের দিনে এটি খুবই আরামদায়ক এবং সতেজ অনুভূতি দেয়।
উপকরণ
* রান্না করা ভাত – ২ কাপ
* পরিষ্কার পানি – ভাত ডুবানোর মতো
* লবণ – স্বাদমতো
প্রস্তুত প্রণালী
1. একটি পরিষ্কার পাত্রে রান্না করা ঠান্ডা ভাত নিন।
2. ভাতের মধ্যে পর্যাপ্ত পানি ঢালুন যাতে ভাত সম্পূর্ণ ডুবে যায়।
3. পাত্রটি ঢেকে সারারাত (৮–১২ ঘণ্টা) রেখে দিন।
4. পরদিন সকালে পান্তা ভাত প্রস্তুত হবে।
5. ইচ্ছা হলে সামান্য লবণ মিশিয়ে পরিবেশন করুন।
কী দিয়ে খেতে পারেন?
* ভাজা মাছ
* আলু ভর্তা
* শুকনা মরিচ ভর্তা
* কাঁচা মরিচ
* পেঁয়াজ
* লেবু
উপকারিতা
* গরমের সময় শরীরকে শীতল রাখতে সাহায্য করে।
* সহজপাচ্য খাবার।
* পানির ঘাটতি পূরণে সহায়ক।
FAQ
পান্তা ভাত কতক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে হয়?
সাধারণত ৮–১২ ঘণ্টা।
ফ্রিজে রাখা ভাত দিয়ে পান্তা করা যায়?
হ্যাঁ, তবে ভাত ঠান্ডা ও পরিষ্কার হওয়া উচিত।
পান্তা ভাত কি প্রতিদিন খাওয়া যায়?
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে প্রস্তুত করা হলে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যায়।
পান্তা ভাতের জন্য কোন ভাত ভালো?
সাদা চালের ভাত সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়, তবে অন্যান্য চালের ভাতও ব্যবহার করা যায়।
পান্তা ভাতের সঙ্গে আলু ভর্তা, কাঁচা মরিচ ও ভাজা মাছ পরিবেশন করলে খাবারটি আরও সুস্বাদু হয়ে ওঠে।



0 মন্তব্যসমূহ