সজনে টাটা এখন বাজারে প্রায় সবসময় পাওয়া যায়। তাই সিজন হোক বা অফসিজন এটা আপনারা যখন খুশি বানিয়ে নিতে পারেন। আর এটা স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী সেটা হয়তো আপনারা নিশ্চয়ই জানেন। আর তাই এই রেসিপিটা আমি একদম ঘরোয়া পদ্ধতিতে আপনাদের করে দেখাবো। যেটা ভাতের সাথে খেতে দেখবেন দারুণ সুন্দর লাগবে। তাহলে চলুন রেসিপিটা শুরু করা যাক। বাই দা ওয়ে আমি শেপ অতনু। আপনারা দেখছেন অতনুর রান্নাঘর। আর আজকে আমাদের রেসিপি সোজানের আটার। [মিউজিক] তাহলে সোজনাটার রেসিপিটা বানানোর জন্য আমি এখানে সোজনাটার আলুটাকে আগে থেকেই কেটে নিয়েছি। ডান্ডার সাইজটা দেখে আশা করি আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন এটাকে আপনাদের কিরকম ভাবে কাটতে হবে। আর আলুটাকে দেখুন আমি একই সাইজের একটু মোটা মোটা করে কেটে নিয়েছি। এবার সরজ আর আলুটাকে কুক করার জন্য আমি এখানে একটা কড়াই নিয়ে গ্যাসটাকে অন করে নিচ্ছি। আর কড়াইটা একটু গরম হয়ে গেলে তাতে দিয়ে দেব সরষের তেল। প্রথমে আমি একটু কমই সরষের তেল দিচ্ছি। জাস্ট এখানে আমি আলু আর সোজনা ডাটাটাকে ভালো করে ভেজে নেব। আর তেলটা যখনই একটু গরম হয়ে যাবে তখন এখানে দিয়ে দিন কেটে রাখা আলুটা। আর আলুটা ভাজার সময় এখানে দিয়ে দিতে হবে অল্প একটু হলুদ। আর তারই সাথে স্বাদমত নুন। তারপর ফ্লেমটাকে মিডিয়াম করে এটাকে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার আলুটা যতক্ষণ না 60% মত ভাজা হচ্ছে ততক্ষণ আপনাদের এইভাবে এটাকে ভেজে নিতে হবে। আর এই আলুটা যতক্ষণ ভাজা হচ্ছে ততক্ষণ আমি এখানে একটা মিক্সি জার নিয়ে নিয়েছি। তার মধ্যে আমি দিয়ে দেব এক চা চামচ সাদা সরষে। আর তারই সাথে দেড় চা চামচ কালো সরষে। আর এই সরষের সাথে যাবে অল্প একটু আদা। এটাকে আমি পাতলা পাতলা করে স্লাইস করে নিচ্ছি যাতে এটা পারফেক্টলি পেস্ট হয়ে যায়। আর এই আদার পরে দিয়ে দেব কাঁচা লঙ্কা ঝালের জন্য। আর তারপর অল্প একটু জল দিয়ে এটাকে স্মুথ পেস্ট বানিয়ে নিন। আর এপাশে দেখুন আলুটা এতক্ষণে প্রায় 30% মত কিন্তু ভাজা হয়ে গেছে। আশা করি দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আলুর মধ্যে কিন্তু এখন অনেকটাই কালার চলে এসছে। আর আলুটা প্রায় এই স্টেজে 50% মত কুক হয়ে গেছে। তাই এখানে আমি এবার দিয়ে দেব সরসনের ডাটাটা। তারপর এটাকে আমি আলুর সাথে ভালো করে একটু ভেজে নেব। মোটামুটি দু থেকে তিন মিনিট আপনাদের এইভাবে এটাকে আলুর সাথে ভালো করে ভেজে নিতে হবে। দু থেকে তিন মিনিট পরে দেখুন আলু আর ডাটা কিন্তু এখন পারফেক্টলি ভাজা হয়ে গেছে। এবার এটাকে আমি তুলে নেব। এবার এই একই তেলের মধ্যে আমি আরো দু থেকে তিন চামচ তেল এড করছি গ্রেভিটা বানিয়ে নেওয়ার জন্য। আর তেলটা একটু গরম হয়ে গেলে আমি এখানে দিয়ে দেব এক চা চামচ কালোজিরে। তারই সাথে অল্প একটু হলুদ গুঁড়ো। রংটা আরো ভালো আনার জন্য হাফ চা চামচ মত কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো। তারপর এটাকে ভালো করে একবার মিশিয়ে নিন। আর মেশানো হয়ে গেলে দিয়ে দিন সরষে বাটাটা। তারপর এটাকে ভালো করে একবার মিশিয়ে নিন। এবার সরষের কাঁচা গন্ধটা যতক্ষণ না চলে যাচ্ছে ততক্ষণ এটাকে ভালো করে মেশাতে থাকুন। আর মিক্সির গায়ে যেটা লেগেছিল সে জলটা আমি এখানে ধুয়ে দিয়ে দিলাম। [মিউজিক] এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যেই দেখবেন এর থেকে কিন্তু তেলটা ছাড়া শুরু করবে। আচ্ছা এখানে আপনাদের একটা ছোট্ট টিপস দিয়ে রাখি। অনেক সময় কি হয়? সরষেটা বাটার সময় হালকা একটু তেত হয়ে যায় মিক্সিতে বাটলে। সেটা এভয়েড করার জন্য আপনারা চাইলে অল্প এখানে দু থেকে তিনটে আপনারা কাজু ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে দেখবেন সরষেটা তেত হবে না। এবার আশা করি নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন তেলটা কিন্তু অলরেডি ছাড়া শুরু করেছে। তাই এই স্টেজে আমি এখানে দিয়ে দেব টমেটো বাটা। আমি এখানে তিনটে টমেটোকে ভালো করে বেটে ব্যবহার করলাম। আর টমেটোটা দেওয়ার পরে এই স্টেজে আপনাদের দিয়ে দিতে হবে স্বাদমত নুন। আর তারপর ততক্ষণ মেশাতে হবে যতক্ষণ না টমেটোর কাঁচা গন্ধটা একদম চলে যাচ্ছে। লঙ্কা গুঁড়ো আর হলুদটা তেলে দেওয়ার কারণে দেখুন কালারটা কতটা সুন্দর এসছে। এবার ফ্লেমটাকে মিডিয়াম টু লো রেখে এটাকে আপনাদের কুক করে নিতে হবে পাঁচ থেকে সাত মিনিটের জন্য। এই স্টেজে চাইলে আপনারা এটাকে ঢাকা দিয়েও কিন্তু কুক করে নিতে পারেন। টমেটোর মধ্যে যতক্ষণ ময়েশ্চারটা থাকবে ততক্ষণ কিন্তু এটা এইভাবেই ছেটকাবে। এটাকে আমি ঢাকা দিয়ে কুক করে নিচ্ছি এই স্টেজে। আর তারপর যখনই দেখবেন এটা পারফেক্টলি কুক হয়ে যাবে তখন কিন্তু আর এটা ছেটকাবে না। বাট পারলে মাঝে একবার কিন্তু এটাকে তুলে নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নেবেন যাতে এটা নিচে লেগে না যায়। [মিউজিক] দেখুন ঝটকানোটা এখানে একদম বন্ধ হয়ে গেছে। আস্তে আস্তে দেখুন তেলটাও ছাড়ছে। আর টমেটোটা এই স্টেজে একদম পারফেক্টলি কুক হয়ে গেছে। ব্যাস এই স্টেজে আমাদের এখানে দিয়ে দিতে হবে অল্প একটু ধনেগুঁড়ো। খুব বেশি নয়। এক চা চামচ মত দিয়ে দিলেই হবে। তারপর এটাকে আবারো ভালো করে মিশিয়ে নিন। আর ধনে গুড়োটা দেওয়ার পরে আপনাদের এটাকে খুব বেশিক্ষণ মেশাতে হবে না। 30 থেকে 40 সেকেন্ড একবার ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে এখানে দিয়ে দিতে হবে আগে থেকে ভেজে রাখা ডাট আর আলুটা। তারপর ফ্লেমটা লো রেখে এটাকে ভালো করে একবার মিশিয়ে নিন। আর এটা মেশানোর সাথে সাথে কিন্তু আপনার এর মধ্যে জলটা ব্যবহার করবেন না। জাস্ট একবার ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে প্রথমে ঢাকা দিয়ে কুক করে নেবেন যাতে এর মধ্যে থেকে ফ্লেভারটা বেরিয়ে আসে। খুব বেশিক্ষণ নয়। এক থেকে দেড় মিনিট এইভাবে চাপা দিয়ে কুক করলেই দেখবেন এর মধ্যে থেকে যে ময়েসচারটা আছে, যে ফ্লেভারটা আছে সেটা কিন্তু গ্রেভির মধ্যে ভালোভাবে এসে যাবে। আর এক থেকে দেড় মিনিট পরে যখনই দেখবেন মসলা থেকে খুব সুন্দর একটা গন্ধ বেরেছে আর এর থেকে আস্তে আস্তে জলটা ছাড়া শুরু করছে এই স্টেজে আপনারা এখানে এডিশনাল জলটা ব্যবহার করুন গ্রেভিটা বানিয়ে নেওয়ার জন্য সেমি গ্রেভি হয় এরকমই আমি জল এখানে ব্যবহার করলাম তারপর এটাকে ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে ঢাকা দিয়ে ফুটিয়ে নেব যতক্ষণ না আলু আর ডাটাটা পারফেক্টলি সেদ্ধ হয়ে যাচ্ছে এই স্টেজে নুনটাও কিন্তু একবার অবশ্যই চেক করে নেবেন যদি কম লাগে তাহলে আরেকটু এখানে এড করে দিতে পারেন। আমার এখানে নুনটা একটু কম লাগছিল। তাই আমি এখানে এড করলাম। তারপর মেশিনে একবার এটাকে ভালো করে ফুটিয়ে নেব। [মিউজিক] আমি আপনাদের একবার মাঝে ঢাকনাটাও খুলে দেখাচ্ছি। দেখুন কি সুন্দরভাবে তেলটাও ছেড়ে দিয়েছে। আশা করি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। গ্যাসটা বন্ধ করার আগে ডাটার আলুটা পারফেক্টলি কুক হয়েছে কিনা সেটা কিন্তু আপনারা অবশ্যই একবার চেক করে নেবেন। আশা করি দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন এটা এখন পারফেক্টলি কুক হয়ে গেছে। এবার ফাইনালি এটাকে ফিনিশ করব অল্প একটু ধনেপাতা দিয়ে। আশা করি সিম্পল রেসিপিটা আপনাদের নিশ্চয়ই ভালো লেগেছে। আর যদি ভালো লেগে থাকে অতি অবশ্যই কিন্তু আমাকে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। [মিউজিক] [মিউজিক] বাই দা ওয়ে আমি শেখ অতনু। আপনারা দেখছিলেন অতনুর রান্নাঘর। দেখা হচ্ছে আপনাদের সাথে আরেকটা নতুন রেসিপি নিয়ে নেক্সট এপিসোডে। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।


0 মন্তব্যসমূহ