নিরামিষ আলু কুমড়ো ঘন্ট



নমস্কার দর্শক বন্ধুরা লিপিস কিচেনে আপনাদের স্বাগত জানাই কুমড়োর অনেক রেসিপি তো আপনারা বানিয়ে খেয়েছেন একবার নিরামিষের দিনে আমার মত করে এভাবে কুমড়ো আলুর এই রেসিপিটি বানিয়ে দেখুন অসম্ভব টেস্টি হয় খেতে বিশেষ করে রুটি লুচি পরোটার সঙ্গে দারুণ লাগবে আশা করছি আপনাদের ভীষণ ভালো লাগবে আমার চ্যানেল এখনো না সাবস্ক্রাইব করা থাকলে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করার অনুরোধ রইল এখানে প্রায় 800 গ্রামের মত কুমড়োকে আমি একটু বড় বড় টুকরো করে কেটে নিয়েছি কেটে ধুয়ে নিয়েছি এছাড়াও 400 গ্রামের মত আলুকেও বড় বড় টুকরো করে কেটে ধুয়ে নিয়েছি হাফ কাপ মতো চিনে বাদাম নিয়েছি চিনে বাদামটা এখানে আমি কাঁচা নিয়েছি আপনারা চাইলে বাজার থেকে রেডিমেড ভাজা চিনে বাদাম কিনে নিতে পারেন আমি এখানে চিনে বাদাম ভেজে নিয়ে খোসাটা ছাড়িয়ে নিয়েছি এরপর মিক্সিতে দিয়ে জাস্ট একবার ঘুরিয়ে নেব যাতে এটা বেশি গুঁড়ো না হয় হয়ে যায় যাতে করে চিনে বাদাম একটু গোটা গোটা থাকে দেখতেই পাচ্ছেন ঠিক এইভাবে গুঁড়ো করে নিতে হবে এরপর কড়াই গরম করে এখানে নিয়ে নিচ্ছি প্রায় দুই থেকে তিন চামচ মতো সরষের তেল এই পর্যায়ে খুব বেশি তেল দেয়ার প্রয়োজন নেই তেল গরম হলে এখানে প্রথমে ডুমো করে কেটে রাখা আলু দিয়ে দিচ্ছি আলু দেয়ার পর আলুর পরিমাণমত লবণ দিয়ে দিলাম লবণ দিয়ে আলুটাকে নাড়াচাড়া করবো এতে করে আলুর ভেতর পর্যন্ত ভালো করে লবণ ঢুকে যেতে পারবে মোটামুটি চার থেকে পাঁচ মিনিট আলুটা একটু নাড়াচাড়া করে নিয়ে এর মধ্যে দিয়ে দিলাম কেটে রাখা কুমড়ো কুমড়ো দেয়ার পর কুমড়োর পরিমাণমত লবণটাও দিয়ে নিলাম এখন আলু আর কুমড়োকে একসঙ্গে একটু ভাজা ভাজা করে নেব রান্নার আগে যদি আলু আর কুমড়োকে এভাবে একটু লবণ দিয়ে ভেজে নেয়া হয় তাতে করে লবণটাও যেমন ভেতর পর্যন্ত ঢুকে যেতে পারে আর রান্নার স্বাদটাও অনেক বেশি ভালো হয় তবে খুব বেশি নরম করে ভাজবার প্রয়োজন নেই জাস্ট ফিফটি মতো ভাজা ভাজা হলে এবার আমরা এটাকে নামিয়ে রাখবো কুমড়ো আর আলু হাফ ভাজা করে নামিয়ে নিচ্ছি এখন বাকি রান্না এই কড়াইতে করার জন্য এখানে আরো কিছুটা সরষের তেল নিয়ে নিচ্ছি তবে তেলের পরিমাণটা এই পর্যায়ে বেশি করেই নিতে হবে যেহেতু কুমড়ো আর আলুর পরিমাণটাও বেশি আছে এখন ফোরন হিসেবে দিয়ে দিচ্ছি তেজপাতা আর দিচ্ছি পাঁচ ফোরন পাঁচ ফোরনের সঙ্গে কিন্তু আমি কালো সরষেও অল্প দিয়েছি দিয়ে দিলাম শুকনো লাল লঙ্কা আর থ্রি পিঞ্চ মতো হিং লো ফ্লেমে ফোরন ভাজা হলে এখানে দিয়ে দিচ্ছি দেড় চামচ আদা বাটা লো ফ্লেমে রেখেই আদাকে জাস্ট মিনিট খানিকের জন্য একটুখানি কষিয়ে নেব এই হিং আর আদার ফ্লেভারটা যেকোনো নিরামিষ রান্নায় বেশ ভালো লাগে এবার দিয়ে দিলাম এক চামচ কাঁচা লঙ্কা বাটা লঙ্কার পরিমাণটা আপনারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কমিয়ে বা বাড়িয়ে নিতে পারেন রান্না শুরু করার আগে থেকেই একটি বোলের মধ্যে আমি দেড় চামচ কাশ্মীরি লাল লঙ্কা হাফ চামচ হলুদ গুঁড়ো আর এখানে এক চামচ ধনে আর এক চামচ জিরে গুঁড়ো কে জল দিয়ে খুব ভালো করে মিশিয়ে রেখেছিলাম এভাবে মিশিয়ে রাখলে মসলাটা কষাতে বেশ সুবিধা হয় এখানে আমি সেই মসলার মিশ্রণ দিয়ে দিলাম এবার খুব ভালো করে মসলাটাকে বেশ সময় নিয়ে কষিয়ে নিচ্ছি লো ফ্লেমে রেখে যাতে মসলা না পুড়ে যায় যত ভালো করে মসলা কষানো হবে রান্নার স্বাদ কিন্তু ততটাই ভালো হবে এবার আমি এখানে যোগ করে দিলাম পরিমাণমত লবণ আগে আলু আর কুমড়ো ভাজবার সময় লবণ দিয়েছিলাম সে কথা মাথায় রেখেই লবণটা দিয়েছি তবে অল্প একটু কমও দিয়েছি লবণটা তার কারণটা পরে বলছি লবণ দিয়ে মসলাকে তেল ছেড়ে যাওয়া পর্যন্ত ভালো করে ভেজে নিয়ে এখন ভেজে নেয়া কুমড়ো আর আলু দিয়ে দিচ্ছি সমস্ত কুমড়ো আর আলু দিয়ে দেয়ার পর মসলার সঙ্গে খুব ভালো করে নাড়াচাড়া করে মিশিয়ে নেব আর তাতে করে দেখুন মসলার একটা সুন্দর কোটিং কুমড়ো আর আলুর গায়ে লেগে গেছে এভাবেই প্রায় চার থেকে পাঁচ মিনিট খুব ভালো করে মসলার সঙ্গে কুমড়ো আর আলুকে নাড়াচাড়া করে নিলাম এতে করে মসলার সুন্দর ফ্লেভার আলু আর কুমড়োর সঙ্গে ভালো করে মিশে যেতে পারবে তারপর এখানে যোগ করে দিলাম মসলার বাটি ধোয়া দেড় কাপ পরিমাণ জল জলটা দিলে রান্নাটা বেশ মাখো মাখো সুন্দর তৈরি হবে সবকিছু দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নেয়ার পর এখন ঢাকা দিয়ে রান্না করব তবে আমাদের কিন্তু বেশ কয়েকটা উপকরণ এখনো দিতে বাকি আছে ছ মিনিট পর ঢাকনাটা খুলেছি এই পর্যায়ে কুমড়ো আলু বেশ সেদ্ধ হয়ে এসেছে দিয়ে দিচ্ছি এখানে গুড় এখানে আমি প্রায় দেড় চামচের মত গুড় দিচ্ছি আর দিচ্ছি এক চামচ থেকে দেড় চামচ আমচুর পাউডার আমচুর পাউডার পাউডার না থাকলে আপনারা তার পরিবর্তে তেঁতুলের পাল্প ব্যবহার করতে পারেন এই গুড় আর আমচুর পাউডার দিলে রান্নাটা খুব সুন্দর মুখরোচক হয় খেতে গুড় আর আমচুর পাউডার দিয়ে ভালো করে মিক্স করে নেয়ার পর তেজপাতাটা তুলে ফেলে দিলাম এবার উপর থেকে দিয়ে দিচ্ছি এক চামচ মতো কসুরি মেথি ড্রাই রোস্ট করা নয় এমনি কসুরি মেথি দিয়ে দিলাম এক থেকে দেড় চামচ মতো দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে এখন ঢাকা দিয়ে আরো তিন মিনিট রান্না করে নিয়েছি এরপর এখানে আমি দিয়ে দিচ্ছি অল্প একটু বিট লবণ এরকম নিরামিষ রান্নাতে একটু বিট লবণ দিলে খেতে ভালো লাগে স্বাদটা বেড়ে যায় তাই আমি প্রথম অবস্থায় একটু লবণটা কম দিয়ে রেখেছিলাম দিয়ে দিয়েছি হাফ চামচ গরম মসলার গুঁড়ো আর যে ভেজে রাখা বাদামটা আমি ক্রাশ করে রেখেছিলাম সেটাও একদম শেষে এখানে মিশিয়ে দিলাম খুব ভালো করে নাড়াচাড়া করে নিলাম সমস্ত কিছু মিশে গেছে ভালো করে আপনারা চাইলে এখানে এক চামচ ঘি দিতে পারেন তবে আমি আর ঘি দিলাম না এতে করেও রান্নাটা খুব সুন্দর হয় খেতে এবার ঢাকা দিয়ে এক মিনিট মতো রান্না করে নেব আর তারপর ফ্লেম অফ করে আরো চার পাঁচ মিনিট স্ট্যান্ডিং টাইম দিয়ে নিয়েছি এখন দেখুন আমাদের এই নিরামিষ কুমড়ো আলুর তরকারি একদম রেডি পরিবেশনের জন্য কতটা লোভনীয় দেখতে হয়েছে খেতেও কিন্তু দুর্দান্ত হয় আশা করছি আমার আজকের এই নিরামিষ রেসিপিটি আপনাদের ভালো লেগেছে ভালো লাগলে লাইক শেয়ার ও কমেন্ট করার অনুরোধ রইল আজকের মত এই পর্যন্তই থ্যাংকস ফর ওয়াচিং

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ