ওগো বসে বসে তোমাকে আর বৃষ্টি দেখতে হবে না এই নাও ভাতার ডাল এবার জলদি করে খেয়ে আমায় উদ্ধার করো তো এমন করে বলো না গিন্নি এমন করে বললে যে খুব কষ্ট লাগে গো আমি তো তোমার স্বামী তাই না এমন করে বলবো না তো কেমন করে বলবো শুনি আজ একটা বছর ধরে টানা বৃষ্টি হবে হচ্ছে এই বৃষ্টির জন্য ঠিকমতো না পারছি|
ভালোমন্দ খেতে আর না পারছি কোথাও যেতে এভাবে কি মানুষ বেঁচে থাকে বলো এটাকে কি বেঁচে থাকা বলে কি করবে গিন্নি সবই তো প্রকৃতির খেলা আজ এই একটা বছর ধরে বৃষ্টি নেমেই চলেছে তা যে থামবার কোন নাম গন্ধ নেই এদিকে এক একটা বছর বৃষ্টিতে যে চারিদিকে একবারে|
পানি জমে গেছে এটা কি আর আমাদের হাতে আছে সবই তো বিধাতার ওপর সব বিধাতার উপর ছেড়ে দিলে আমাদের পেট চলবে কি করে শুনি বিধাতার কাজ বিধাতা করবে আর আমাদের কাজ আমাদেরকেই তো করতে হবে তুমি জলদি করে ভালো একটা কাজ খুঁজে বের করো নয়তো এসব ডাল ভাত আমি আর খেতে পারবো না এসব খাওয়ার চেয়ে বরং তুমি আমাকে বাপের বাড়িতে রেখে এসো আরে কিসের মধ্যে কিসের কথা বলছো গিন্নি তুমি আমার বাপের বাড়ি কেন যাবে শুনি আর এই বৃষ্টির|
সময় তো তুমি তোমার বাপের বাড়িতে কোনভাবেই যেতে পারবে না দেখি আর কয়েকটা বছর এর ভেতরে যদি বৃষ্টি না থামে তাহলে তোমাকে নিয়ে আমি অন্য একটা উপায় খুঁজে দেখব এই কথা দিলাম তোমাকে এই কথা তো আরো এক বছর ধরে বলে আসছো কই কখনো তো তোমাকে কিছু করতেই দেখলাম না চল তো সব এখন জলদি করে খেয়ে বাজারে যাও দেখি বাজার থেকে চাল আর ডাল নিয়ে এসো নইলে কিন্তু ভাত আর|
ডালটাও পেটে পড়বে না না খেয়ে মরতে হবে আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে কোকিন্নি ঠিক আছে যাচ্ছি যাচ্ছি চিকেন নিয়ে যাচ্ছি তার আগে দুটো তো খেয়ে নেই নাকি আচ্ছা ঠিক আছে তুমি তাহলে খাওয়া শুরু করো আমি ততক্ষণে বাজারের ব্যাগটা নিয়ে আসছি আরে কি নৌকাটা তো দেখছি একেবারে ভিজে গেছে এই ভেজা নৌকা নিয়ে এখন আমি কিভাবে?
বাজারে যাব সেটাই তো বুঝতে পারছি না এই যে এই নাও ছাতা আর বাজারের ব্যাগ ছাতাটা মাথায় দিয়ে দিও আর বাজারের ব্যাগটা নৌকায় রেখে দাও এরপর নৌকা নিয়ে বাজারে যাও এই না হলে আমার বউ দেখো|
মাথায় কি বুদ্ধি আমি বলতে না বলতেই দেখছি ছাতাটাও নিয়ে এসেছো দাও দাও তুমি আমাকে জলদি করে ছাতাটা আর বাজারের ব্যাগটা দাও আমি নৌকা নিয়ে এখনই বাজারে চলে যাচ্ছি বলা তো যায় না বৃষ্টি আবার কখন বেড়ে যায় আচ্ছা ঠিক আছে সাবধানে যেও আর শোনো যদি পারো না তাহলে একটা মাছ কিনে নিয়ে এসো মাছ আচ্ছা ঠিক আছে যদি টাকাতে হয় তাহলে |
অবশ্যই একটা মাছ কিনে নিয়ে আসবো ও নিয়ে তুমি অত ভেবো না গিন্নি আরে ও গোপাল ভাই দোকানে আছো দেখছি তা আমার যে কিছু সদাই পাতি লাগবে জলদি করে দিতে পারবে তো ওদিকে আবার কখন বৃষ্টি নেমে যায় সে কথা তো আর বলা যায় না তাইতো বৃষ্টির আগেই চাচ্ছি সদাই পাতি নিয়ে বাড়ি চলে যেতে ওসব নিয়ে তুমি ভেবো না মনে ভাই তোমার যা যা লাগবে শুধু আমাকে বলো আমি জলদি করেই তোমার সবকিছু বাজারের ব্যাগে ঢুকিয়ে দিচ্ছি তুমি আমাকে শুধু টাকা আর বাজারের ব্যাগটা দাও তো শোনো গোপাল ভাই আমার ওই ব্যাগে পাঁচ কেজি চাল আর দু কিলো ডাল জলদি করে ব্যাগে ভরে দাও কেমন গোপাল ভাই আমার যে আবার অত সময় নেই বুঝলে কখন বৃষ্টি নেমে যায় কে জানে ঠিক আছে ঠিক আছে মনু |
ভাই তুমি তো একবার আর বললে এই দু কিলো ডাল আর পাঁচ কিলো চাল এখনই ব্যাগে ভরে দিচ্ছি আমি এইতো এই তোমার পাঁচ কেজি চাল আর এই দু কিলো ডাল ভরা শেষ কেমন আর যে টাকা হয়েছে তাতে তুমি আর দশ টাকা ফেরত পাবে বুঝলে মাত্র দশ টাকা ফিরেছে আচ্ছা ঠিক আছে গোপাল ভাই তুমি আমাকে দশ টাকাটাই ফেরত দাও এইতো এই নাও তোমার দশ টাকা আর এই হলো তোমার সদাই পাতির ব্যাগ গিন্নি তো বলল সদাই করে টাকা ফিরলে মাছ কিনতে আজ তো বাজার সদাই করবার পরে মাত্র 10 টাকা ফিরলো কিন্তু এই দশ টাকায় তো মাছের কাঁটা গুলো পাবো না না এই দশ টাকা দিয়ে আর কিছু না করে বরং এক কাপ চা খেয়ে বাড়ি চলে যাই ওইতো পাশেই মতি ভাইয়ের একটা চায়ের দোকান দেখতে পাচ্ছি যাই এক কাপ চা খেয়ে আসি আজকে একটা বছর হতে চলল একটানা বৃষ্টি নেমে চলেছে এভাবে চলতে থাকলে তো পুরো দেশ একসময় জলের তলায় ডুবে যাবে তখন তো আর আমাদের যাওয়ার কোন জায়গা থাকবে না সে কথা আর বলো না মতি ভাই সে কথা বলে আর কি লাভ বলো আজকে এক একটা বছর ধরে এই বৃষ্টির সাথেই সংসার করছি এই বৃষ্টির ভেতর গোসল করছি বাজার করছি খাচ্ছি এমনকি কাজকর্ম সবই করতে হচ্ছে এই বৃষ্টির সাথেই শুধু বৃষ্টি হলেও কথা ছিল সেই বৃষ্টির জলে তো আবার চারিদিকটা একেবারে ডুবে গেছে এতে করে যে দিন দিন আমাদের সমস্যা আরো বেড়েই চলছে গো ও কথা আর বলো না দাদা এই বৃষ্টি তো আমাদের জীবনটা একেবারে শেষ করে দিয়েছে বৃষ্টি জলে গ্রামটা ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের নিজেদের জীবনটাও ডুবতে বসেছে কি আর করবে দাদা সবই তো বিধাতা লীলা খেলা সে খেলা কি আর আমরা বুঝি তুমি যাই বলো মনু ভাই এভাবে কিন্তু আর চলা যায় না আজ একটা বছর ধরে বৃষ্টির ভেতর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চায়ের দোকানদারি করছি এই জলের যত সাপ পোকামাকড় আছে সব এসে এই দোকানের ভেতরেই জড়ো হয় বাবারে বাবা এগুলো সাফ করতে করতে যে আমার জীবনটাই একেবারে শেষ হয়ে গেছে গো না না এসব বলে তো আর কোন লাভ নেই মতি দাদা সবই তো একটা বছর ধরে চলছে এখন এগুলোর সাথে সাথে ধীরে ধীরে মানিয়ে নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই সে তুমি ঠিক কথাই বলেছো এই বৃষ্টির সাথে আমাদের সংসার চলছে এক বছর ধরে হয়তো ভবিষ্যতেও আরো চলবে আরে এইতো বৃষ্টি চলে এসেছে এই নাও দাদা তোমার টাকাটা তুমি রাখো আমি এবার যাই বৃষ্টি আসবার আগেই বা আমাকে আবার চলে যেতে হবে এ কি মা তুমি তো একেবারেই ভিজে গেছো এই নাও গামছা দিয়ে নিজের শরীরটা মুছে নাও আরে মা দে হাত পা একেবারে ভিজে গেছে আমি ভেবেছিলাম জল বেশি হবে না তাই হেঁটেই চলে এসেছি কিন্তু মা তুমি নৌকো দিয়ে না এসে বৃষ্টিতে ভিজে আসলে কেন এইটুকু পথ ওপথ তো তুমি নৌকো দিয়েই আসতে পারতে আরে মা আমি ভেবেছিলাম তোদের বাড়ির পথে বৃষ্টি জল কম তাই তোর বাবাকে গঞ্জে পাঠিয়ে আমি পথেই নেমে পড়েছিলাম ও বুঝেছি এবার তুমি ঘরে চলো তো মা আরে এতো মেঘনা চাইতেই বৃষ্টি|
এই আমি কি দেখছি একটা বড় মাছ কিনা লাফ দিয়ে আমার নৌকাতে উঠে পড়েছে তা বেশ ভালোই হয়েছে ওইদিকে গিন্নিও একটা মাছ নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছিল এবার এই মাছটাকে গিন্নির জন্য নিয়ে যাই বৃষ্টি শুধু আমাদের জন্য দুঃখই বয়ে আনিনি সাথে সাথে কিছুটা সুখ বয়ে এনেছে সেটা এখন কিছুটা হলেও বুঝতে পারছি গিন্নি মা যে আজকে আসবে তুমি আমাকে বললে না আমি তাহলে কিছু জিনিস বাকিতে হলেও বাজারটা করে আনতাম আরে মাঝে আজ আসবে সেটা তো আমিও জানতাম না আরে এ কি তোমার হাতে এত বড় একটা মাছ এত বড় মাছের তো অনেক দাম তুমি এত বড় মাছ কিনলে কি করে গো সে এক মজার কাহিনী গিন্নি আসবার সময় আমি শুধু চাল আর ডাল কিনেই বাড়ি ফিরছিলাম ঠিক তখনই মাছটা পানি থেকে লাফ দিয়ে আমার নৌকায় উঠে পড়লো আর আমিও বিধাতাকে ধন্যবাদ দিয়ে মাছটা নিয়ে আসলাম সে তুমি ভালোই করেছো |
নইলে মায়ের কপালে শুধু আজ ডাল আর ভাতি জুটতো এবার দাও তো দেখি আমি মাছটা ভালো করে রান্না করে ফেলি এই নাও গিন্নি এই বৃষ্টির ভেতরে মাছ দিয়ে ভাত খেতে খুবই ভালো লাগছে কখনো ভাবিনি আজ তোদের বাড়িতে এসে হঠাৎ করে মাছ দিয়ে ভাত খাবো তাও আবার এত বড় মাছ সেটা তো কল্পনায়ও ছিল না সেটা তো আমাদেরও কল্পনায় ছিল না মা সবেই বিধাতার ইচ্ছে বুঝলে নইলে বৃষ্টির দিনে এরকম করে বাঁচা যায় নাকি তুমি যাই বলো গিন্নি বৃষ্টি যে আমাদের শুধু ক্ষতি করেছে তা নয় সেই সাথে বৃষ্টি আমাদের কিছুটা হলেও উপকারও করেছে গিন্নি এই বৃষ্টির দিনে তোদের সংসার দেখে আমি খুবই খুশি হয়েছি|
রে মা আমি ভাবতেও পারিনি এই বৃষ্টির ভেতরে আমার মেয়েটা সংসার করে খেতে পারবে আমি তোদের জন্য দোয়া করি রে মা যাতে তোরা আরো ভালো থাকিস সবই আপনার দোয়া মা|
বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া বানানো নিয়ে সাধারণত যাদের ওপর রান্না ও পরিবারের খাবারের দায়িত্ব বেশি থাকে, তাদেরই বেশি চিন্তা হয়। তবে এটি ব্যক্তি ও পরিবারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।
কিছু সাধারণ কারণ:
1. পরিবারের প্রধান রাঁধুনি – প্রতিদিন কী রান্না হবে, সবার পছন্দ-অপছন্দ, পুষ্টির বিষয় ইত্যাদি নিয়ে ভাবতে হয়।
2. গৃহিণী বা গৃহকর্তা – বাজার করা, খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং খাবারের পরিকল্পনা করতে হয়।
3. বয়স্ক সদস্যরা – পরিবারের সবাই যেন সময়মতো ও ভালো খাবার পায়, সে বিষয়ে চিন্তা করতে পারেন।
4. কর্মজীবী মানুষ – কাজের ব্যস্ততার মধ্যে রান্না ও খাবারের ব্যবস্থা করা নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারেন।
5. অতিথি আসার সময় – কী খাবার পরিবেশন করা হবে এবং সবাই সন্তুষ্ট হবে কিনা, তা নিয়ে বাড়তি চিন্তা হয়।
FAQ
প্রশ্ন: খাওয়া-দাওয়া নিয়ে বেশি চিন্তা করা কি স্বাভাবিক?**
উত্তর: হ্যাঁ, পরিবারের দায়িত্ব যাদের বেশি থাকে তাদের জন্য এটি স্বাভাবিক।
প্রশ্ন: এই চিন্তা কমানোর উপায় কী?**
উত্তর: আগেভাগে সাপ্তাহিক মেনু তৈরি করা, বাজারের তালিকা করা এবং পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নেওয়া।
প্রশ্ন: প্রতিদিন নতুন রান্না করা কি জরুরি?**
উত্তর: না, সহজ ও পুষ্টিকর খাবারও পরিবারের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
প্রশ্ন: পরিবারের সবাই কি খাবারের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারে?**
উত্তর: অবশ্যই। এতে কাজের চাপ ও মানসিক চিন্তা দুটোই কমে।
বৃষ্টির সময় কিভাবে খাবার মেনু ঠিক করা হয়
বৃষ্টির দিনে আবহাওয়া সাধারণত ঠান্ডা ও আরামদায়ক থাকে। তাই এমন খাবার বেছে নেওয়া হয় যা গরম, সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং সহজে হজম হয়।
মেনু ঠিক করার কিছু উপায়
১. আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই খাবার নির্বাচন
গরম খিচুড়ি
সবজি স্যুপ
মুরগির ঝোল
গরম চা বা কফি
২. মৌসুমি উপকরণ ব্যবহার
বর্ষাকালে সহজে পাওয়া যায় এমন সবজি ও শাক দিয়ে রান্না করলে খাবার আরও তাজা ও সুস্বাদু হয়।
৩. পুষ্টির দিকে নজর রাখা
বৃষ্টির সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতে—
ডাল
শাকসবজি
মাছ
ডিম
ফল
খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো।
৪. সহজে রান্না করা যায় এমন খাবার বেছে নেওয়া
বৃষ্টির দিনে দীর্ঘ সময় রান্নাঘরে না থেকে এক পাত্রে রান্না করা যায় এমন খাবার যেমন খিচুড়ি বা পোলাও বেছে নেওয়া যায়।
৫. পরিবারের পছন্দ বিবেচনা করা
শিশু, বয়স্ক ও অন্যান্য সদস্যদের পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী মেনু সাজালে সবাই আনন্দের সঙ্গে খেতে পারে।
একটি নমুনা বৃষ্টির দিনের মেনু
সকাল: গরম চা, পরোটা ও ডিম ভাজি
দুপুর: খিচুড়ি, ইলিশ বা ডিম ভাজা, বেগুনি
বিকেল: চা, পেঁয়াজু বা পকোড়া
রাত: গরম রুটি, মুরগির ঝোল ও সবজি
বৃষ্টির সময় যদি পরিবারের কোনো সদস্য রান্না করা খাবার পছন্দ না করেন, তাহলে কয়েকটি সহজ উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে:
কারণ জানার চেষ্টা করুন
খাবারটি কেন পছন্দ হচ্ছে না—স্বাদ, মসলা, গন্ধ নাকি অন্য কোনো কারণে—তা জিজ্ঞাসা করুন।
বিকল্প খাবার রাখুন
মূল খাবারের সঙ্গে একটি সহজ বিকল্প রাখতে পারেন, যেমন ডিম ভাজি, সবজি ভাজি, স্যুপ বা ফল।
পরিবারের মতামত নিয়ে মেনু তৈরি করুন
আগেই সবার পছন্দের খাবারের তালিকা তৈরি করলে এমন সমস্যা কম হয়।
ছোট পরিমাণে নতুন খাবার দিন
নতুন কোনো খাবার হলে অল্প পরিমাণে পরিবেশন করুন, যাতে না পছন্দ হলে অন্য কিছু খাওয়ার সুযোগ থাকে।
গরম ও আরামদায়ক খাবার দিন
বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি, স্যুপ, গরম চা, সবজি বা হালকা ঝোল অনেকের কাছেই বেশি গ্রহণযোগ্য হয়।



0 মন্তব্যসমূহ