গিন্নি আরে ও গিন্নি কোথায় গেলে তুমি? খুশির সংবাদ আছে। আরে এসো এসো এসো এসো। >> আরে হলো কি? এভাবে নাচানাচি করছো কেন? কি খুশির সংবাদ নিয়ে এসেছো শুনে? >> আরে এবার একটা ভালো রান্নার কাজ পেয়েছি। এই রান্নাটা যদি করতে পারি না তাহলে অনেক টাকা পাবো। >> কোথায় রান্নার কাজ পেলে? এই যে শুনলে না জমিদার বাড়ির মেয়ের বিয়ে। সেই বিয়েতে রান্নার দায়িত্ব আমার উপর এসে পড়েছে। আমাকে রান্না করতে যেতে হবে। >> কি বলছোটা কি তুমি গো? আমাদের মত গরীবদের হাতে রান্নার ভার দিয়েছে। আমি তো ভেবেছিলাম হয়তো শহর থেকে ভালো ভালো রান্নার লোক আনবে। >> আমরা থাকতে আবার রান্নার লোক আনবে কেন? আমাদের নামটা কম নাকি? এই গ্রামের সমস্ত রান্না তো আমরাই করি। >> যাক এবার যদি রান্নার টাকাটা পেয়ে যাই না তাহলেই ঘরটা একটু ঠিক করব। অনেকদিন ধরে এরকম ভাঙ্গা পড়ে আছে। >> হ্যাঁ গো।
এবার আমার অনেক স্বপ্ন পূরণ হবে। জমিদার বাড়ির বিয়ে বলে কথা কম টাকা তো দেবে না। >> তুমি যাও যাও। সবকিছু জোগাড় করা শুরু করে দাও। দেখো রান্নায় যেন একটু এদিক ওদিক না হয়। দেখুন জমিদার মোশাই আমার একমাত্র মেয়ের বিয়ে এভাবে ভেঙে দিয়ে যাবেন না। আপনারা আমার কথা একটিবার শুনুন। কিসের কথা শুনবো? আপনাদের এখানে আমাদেরকে ডেকে এনে ভরা সমাজে অপমান করবার কোন মানে আছে? রান্না একটু এদিক ওদিক হতেই পারে। তাই বলে যে আপনাকে অপমান করছি এমন কোন বিষয় নয়। আপনি হলেন এই গ্রামের জমিদার। আপনাদের রান্নাবান্না এরকম হয় কিভাবে? আপনাদের ঘরের মেয়ে আমরা নিই কিভাবে আপনি বলুন তো? এমন করবেন না। মেয়েটার জীবনটাই নষ্ট হয়ে যাবে। আমি আমি গ্রামের জমিদার। মেয়ের বিয়ে ভেঙে গেলে সমাজে মুখ দেখাতে পারবো না।
আর এই যে আমার এত অতিথি নিয়ে আমি এখানে বিয়ের আয়োজনে এসেছি। আমি কিভাবে তাদেরকে মুখ দেখাবো সেটা আপনি একবারও বুঝতে পারছেন না। দেখুন একটু ভুলভ্রান্তি হয়ে গেছে। ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখুন। এভাবে বিয়ে ভেঙে দিয়ে যাবেন না বুঝতেই তো পারছেন ব্যাপারটা। আমি বুঝতে চাই না। আমি আমার ছেলের সাথে আপনার মেয়ের বিয়ে দেবো না। আমি এই মুহূর্তে বিয়ে ভেঙে দিচ্ছি। দোহাই লাগে আপনার। দোহাই লাগে। আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন। ছাড়ুন তো মশাই এসব নাটক দেখতে আর ভালো লাগে না। যে বাড়িতে প্রথম দিনেই আপ্যায়নে এমন ঘাটতি হয় সেই বাড়িতে ছেলের বিয়ে দিয়ে যে কি অবস্থা হবে তা আমার ভালোই বোঝা হয়ে গেছে। >> এটা তুমি কি করলে ভজহরি? আমি তো তোমার উপরে ভরসা করে রান্নার সমস্ত দায়িত্ব তোমাকে দিয়েছিলাম। >> ক্ষমা করবেন হুজুর। আসলে আমি তো সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই নেতেছিলাম। রান্না করবার পর আমি চোখে দেখেছি তেমন কোন সমস্যা তো মানে দেখতে পেলাম না। >> তাহলে তোমার চোখের সামনে যে ঘটনাটা ঘটে গেল সেটা কেন হলো তুমি বলো? রান্নায় এমন কি ব্যবহার করেছো যাতে রান্নার স্বাদ এমন পাল্টে গেল আর এমন ঝালে পরিণত হলো। >> আমি আসলে জানিনা কেন কি হয়েছে। আমি সত্যি বলছি আমি কিছু করিনি।
আবারও মিথ্যে কথা বলে যাচ্ছো। বরপক্ষের প্রত্যেকটা মানুষ ঝালে পাগল হয়ে গেছে। এটা তুমি ঠিক করলে না ভজহরি। >> দয়া করুন হুজুর আমি আসলে এমন কিছু করিনি। আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমাকে শাস্তি দেবেন না। >> শাস্তি তো তোমাকে পেতেই হবে। আর তোমার শাস্তি হলো এই মুহূর্তে তুমি আর তোমার পরিবার এই গ্রাম ছেড়ে চলে যাও। >> ক্ষমা করুন হুজুর। আমাদের যে আর যাওয়ার কোন জায়গা নেই আমরা গরিব মানুষ কোথায় গিয়ে থাকবো >> তোমাদের আরো কঠিন শাস্তি দেওয়া উচিত ছিল নেহাত আমি ভালো মানুষ বলেই তোমাদেরকে গ্রাম ছাড়ার আদেশ দিয়েছি এক্ষুনি এখান থেকে বেরিয়ে যাও নহলে আমি প্রহরী ডাকতে বাধ্য হব হায় হায়রে আমার কি হলো আমার মেয়ের জীবন আমি নিজের হাতে নষ্ট করে দিলাম আমাকে কষমা ক্ষমা করিস মা আমাকে ক্ষমা করিস কি হে তুমি সেই রাধুনি না যে পাশের গ্রামে জমিদারের মেয়ের বিয়েতে অঘটন ঘটিয়েছো >> হ্যাঁ আমি সেই রাধুনি কিন্তু আমাকে চিনলে কিভাবে >> না চিনবার কি আছে এই ঘটনা তো পুরো 10 গ্রামে রোটে গেছে আমিও তো ছিলাম সেখানে এই গ্রাম থেকেই তো বরপক্ষ গিয়েছিল >> কি বলছো এই গ্রাম থেকেই বরপক্ষ গিয়েছিল। আর আমি কিনা এই গ্রামে চলে এসেছি। >> নিশ্চয়ই তোমাকে ওই গ্রাম থেকে বিতাড়িত করেছে তাই না? এইজন্য এই গ্রামে এসে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছো। >> বিশ্বাস করো বাবা আমি এমন কিচ্ছু করিনি। শুধু শুধু এমন কেন হলো কিছুই বুঝতে পারছি না।
আমি গরিব মানুষ কোথায় যাব। যেখানেই যাও না কেন এই গ্রামে জায়গা পাবে বলে মনে হয় না। কারণ এই গ্রামের জমিদার ওই গ্রামের ওপরে বেজায় রেগে আছে। >> এই গ্রামে কি কোথাও রান্নার কাজ পাওয়া যাবে না? একটুখানি আশ্রয় আর রান্নার কাজ পেলেই হতো। >> না গো। যদি এইখানে তোমাকে আর এই গ্রামের জমিদার দেখে তাহলে তোমাকে আরো বড় শাস্তি দেবে। তার ছেলের বিয়ে পন্ড হয়েছে তোমার কারণে। >> কি যে যন্ত্রণা এখন যে কোথায় যাই কোথায় গিয়ে থাকবো? এখন তো মনে হচ্ছে জঙ্গল ছাড়া কোন উপায় নেই। >> যাও যাও জঙ্গলে গেলেই বাঁচো। আরে আমি ভালো মানুষ বলেই তোমাকে ধরিয়ে দিলাম। >> তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না? আমরা ঠিক একটা আশ্রয় পেয়ে যাব। দেখো আমরা তো কোন দোষ করিনি বলো। আশ্রয় পেয়ে গেলেই তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে। >> কে গো তোমরা কারা? এখানে এভাবে বসে আছো যে তোমরা যাবে কোথায়? এই জঙ্গলের পথ ধরে কোথায় চলেছ? >> আসলে আমরা হলাম অসহায়। আমাদের যাওয়ার কোন জায়গা নেই। এই জন্য এখানে এই পথের ধারে বসে আছি। আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
>> আহারে তোমাদের দেখে তো ভালো লোক মনে হচ্ছে। এমনকি কোন জায়গা নেই যেখানে তুমি যেতে পারো তাহলে সেখানে আমি পৌঁছে দিতাম। >> না বাবা আমাদের যাওয়ার কোন জায়গা নেই। আমাদের গ্রাম থেকে আমাদেরকে বিতাড়িত করা হয়েছে। তাই তো এখানে এসে বসে আছি। >> তোমাদের গ্রাম থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে কেন? তোমরা কি কোন অন্যায় কাজ করেছো? >> ওই উপরওলার দোহাই দিয়ে বললাম আমরা কোন খারাপ কাজ করিনি। আমরা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। এই যে দেখেন এই জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছি। >> ঠিক আছে। বাকি কথা না হয় পরে শুনবো। এখন তোমার স্ত্রীর অবস্থা দেখে বেশি ভালো মনে হচ্ছে না। তোমার স্ত্রীকে নিয়ে চলো আমার আশ্রমে। আপনি আমাদেরকে আশ্রয় দেবেন >> কি আর করবার তোমাদের কি এরকম অসহায় অবস্থায় তো ছেড়ে দিতে পারি না চলো তার চেয়ে বরং একসাথেই থাকি আমরা এবার বলো তোমাদের সাথে কি ঘটনা ঘটেছে তোমাদেরকে কেন গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে সমস্ত ঘটনা আমাকে খুলে বল >> আমি সাধারণ একজন রাধনি গ্রামের কোন অনুষ্ঠ ষঠানে রান্নাবান্না করে থাকি। আমার হাতের রান্নার বেশ প্রশংসা রয়েছে গ্রামে। >> তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু হঠাৎ করে কি এমন ঘটলো? >> আমার গ্রামে জমিদার মহেন্দ্রের একমাত্র মেয়ের বিয়ে। সেই বিয়েতে আমার রান্না করবার কথা ছিল। আমি ঠিকঠাক ভাবেই রান্না করেছি।
মানে চেখেও দেখেছি। কিন্তু সবকিছু তখন ঠিকঠাকই ছিল। তারপর কি হলো >> তারপর আর কি বরপক্ষ এলো খেতে বসে তারা খাবারের ভেতরে ঝাল পেল এক একজন সে কি ঝালে মরে যাচ্ছে এরপর বরপক্ষ বিয়ে ভেঙে দিয়ে চলে যায় >> এখানে বরপক্ষ কারা >> এই যে পাশের গ্রামের প্রতাপ রয়েছে প্রতাপ জমিদার তারাই বরপক্ষ ছিল >> তাহলে তুমি এখন বলছো সব রান্না না তুমি ঠিক করেছো কিন্তু হঠাৎ করেই এমন ঘটনা ঘটেছে >> একদম এই যে বুড়ো হয়ে গেছি সেই ছোটবেলা থেকে রান্না করছি এই অভিজ্ঞতা তো মিথ্যে নয় >> তাহলে নিশ্চয়ই তোমার বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করেছে >> আমি একজন সামান্য রাধুনিক আমার সাথে কার শত্রুতা থাকতে পারে বলুন তো >> তোমার সাথে না থাকতে পারে জমিদারের সাথে তো থাকতে পারে। হয়তো তার উদ্দেশ্য অন্য ছিল। যাই হোক আমি যা বোঝবার বুঝেছি। এখন আমি তোমাকে সাহায্য করবার আশ্বাস দিলাম। >> আপনি আপনি আমাকে সাহায্য করবেন। >> অবশ্যই করব। দুজন নিরপরাধ মানুষ এইভাবে ভুগবে সেটা তো আমি চাই না। আমি তোমাদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করেই ছাড়বো। আরে সাধু বাবা আপনি আসুন আসুন আসুন বসুন বসুন আমি তো আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম সেই কবে আপনাকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে আপনি তো আসবার নাম নিলেন না আমার কি আর সেই বরষদ রয়েছে কত কাজ করতে হয় একটু সুযোগ পেলাম তাই তোমার আমার কাছে চলে এলাম। ভালো করেছেন। খুব ভালো করেছেন। আপনি এবার কয়েকটা দিন আমার বাড়িতে থাকবেন।
আমার মন মেজাজ ভালো নয়। সব ঘটনাই আমি জানি। তোমার সাথে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখের একটা ঘটনা। আরে হ্যাঁ বাবা পরিচয় করিয়ে দিই। এই হলো সুরেন্দ্র। আমার ছোট ভাই আমার আমার জমিদারীর অনেক কিছুইও দেখাশোনা করে। তোমার একটা ছোট ভাই আছে সেটা তো আমি জানতাম না। কখনো তো দেখিনি। ও আসলে সবার সাথে কথা তেমন একটা বলে না। একটু একা থাকতে ভালোবাসে তাই সবার সামনেও আসে না তেমন। তা বেশ বেশ একা থাকাটাই ভালো। বর্তমান যুগ একটুও ভালো নয়। তা তোমার ভাই বিয়ে টিয়ে কিছু করেনি তার ছেলেমেয়ে কজন না। কয়েকবার চেষ্টা করেছিলাম ভাইকে বিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমার ভাই রাজিই হলো না। বলল এসব তার জন্য নয়। সেইজন্যই তো আর সংসার করা হয়ে ওঠেনি। ওর সবকিছুই বুঝতে পারলাম। যাই হোক তোমার এখানে এসে ভালো লাগলো।
আমি কিন্তু এখানে কয়েকদিন থাকবো। ঠিক আছে। আমার থাকবার ব্যবস্থা করো। যাই বলো তোমার সাথে আড্ডা দিয়ে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগলো। তোমার ভাই বলল তুমি মানুষের সাথে তেমন কথা বলো না। কিন্তু আমার সাথে তো পুরোটাই উল্টো। >> যারটার সাথে কথা বলতে আমার ভালো লাগে না। মানুষ বুঝে কথা বলি। আপনাকে আমার ভালো লেগেছিল বোধয় তাই মানে বলে আমি মানে কথা বলতে রাজি আছি। তোমাকেও কিন্তু আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। এর উপহার স্বরূপ তোমাকে আমি একটা কথা বলি। আমার কিন্তু অনেক শক্তি। এমন শক্তি যে তুমি যা চাইবে তাই তোমাকে দিতে পারব। >> কি বলছেন আপনি বাবা? আমি যা চাইবো আপনি তাই আমাকে দিতে পারবেন। >> একদম তাই। এমনকি এই জমিদারি পুরোটাই তোমার করে দিতে পারব। তুমি শুধু একবার আমাকে বলো কেমন? >> না না না আমার এই জমিদারি কিছু লাগবে না। যতটুকু আছে ততটুকুতে আমি সন্তুষ্ট। >> কি যে বলো না। আমি তো জানি এই সমস্ত জমিদারি পাওয়ার লোভে তুমি এখনো সংসার শুরু করোনি। >> এই কথা তো আমি ছাড়া আর কেউই জানে না। আপনি জানলেন কিভাবে বাবা? আপনার আসলেই অনেক শক্তি। আমি আমার অন্তরদৃষ্টি দিয়ে সবকিছুই উপলব্ধি করি। তাই তো বললাম যদি এমন কিছু প্রয়োজন হয় আমাকে জানাবে। এতে তোমার লাভ আমারও লাভ। আমাকে কিছু পয়সা পাতি দিলে।
আবে আবে আপনি যদি সত্যি বলে থাকেন তাহলে আপনার কাছে মানে আমার অনেক কিছু চাওয়ার আছে। আপনাকে আমি দু হাত ভরে খুশি করে দেব। ঠিক আছে তুমি সময় অনুযায়ী আমাকে জানাবে। আরে সাধু বাবাজি আমার কি ভাগ্য আপনি আমার বাড়িতে এসে দর্শন দিলেন। কেন দর্শন দেওয়া যাবে না বুঝি।
কি যে বলেন আপনি আমি আপনাকে কত কত করে খবর দিই। আপনি তো আর আসার নাম নেন না। কি আর করবার? আজকে একটা বিপদে পড়েই তোমার কাছে এসেছি। কি বিপদে পড়েছেন বাবা আপনি? শুধু একবার বলুন। আপনার সমস্ত বিপদ আপদ দেখবার দায়িত্ব আমার। যে বিপদে পড়েছি সেই বিপদ থেকে তুমি আমাকে রক্ষা করতে পারবে কিনা আমি জানিনা। তবে তোমাকে আমি অনুরোধ করতে পারি। আপনি একদিন আমার এমন উপকার করেছিলেন যে যে উপকার আমি কোনদিন ভুলবো না। সেই উপকারের প্রতিদান হিসেবে হলেও আমি আপনাকে নিজের প্রাণ দিয়ে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে চাই। তোমার প্রাণ দিতে হবে না। শুধুমাত্র তোমার ছেলেকে দাও মহেন্দ্র জমিদারের মেয়ের জন্য। এটা আপনি কি কথা বললেন সাধু বাবা? আপনি যেহেতু এই কথা বললেন তাহলে পুরো ঘটনাটা আপনি নিশ্চয়ই জানেন।
আমি জানি বলেই তো তোমার কাছে এসেছি। তবে একটা কথা শুনে রাখো। আমরা সবসময় যা দেখি সেটা কিন্তু সত্যি নাও হতে পারে। আমি তো চোখের দেখা দেখিনি সাধুবা। আমি নিজে উপলব্ধি করেছি। আমার বরপক্ষের যত অতিথি ছিল সবার সামনে আমি অপমানিত হয়েছি। তোমার কি মনে হয়? মহেন্দ্র নিজের মেয়ের বিয়েতে এমন করতে পারে তার একমাত্র মেয়ে তাহলে কে করল এমন অন্য কেউ করেছে এবং সেই লোককে আমি সামনে এনে তবেই তোমার ছেলের সাথে মহেন্দ্রর মেয়ের বিয়ে দিতে চাই। এবার বলো তোমার আপত্তি আছে। যেহেতু আপনি অনুরোধ করছেন আর ওই ষড়যন্ত্রের পেছনে কে আছে তাকেও আমি দেখতে চাই। আমি এ বিয়েতে রাজি।
আমাকে আবারও আজকে ঋণ করে দিলেন প্রতাপ সিং। আমি আবার আসবো। আমার অপেক্ষায় থেকো। >> কি হলো সাধু বাবা? কিছু বলবেন নাকি? এভাবে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন যে। মহেন্দ্র তোমার সাথে আমার বেশ গোপন কথা আছে। তাই দরজাটা বন্ধ করতে বাধ্য হলাম। একটু আস্তে কথা বলো। ব্যাপারটা কি সাধু বাবা? কোন কিছু হয়েছে নাকি? আমাকে বলুন। আমি ঠিক করে দিচ্ছি।
যে ঘটনা ঘটেছে সেটা তুমি ঠিক করতে পারবে না। সেটা ঠিক করবার জন্য আমি নিজে এসে তোমার বাড়িতে উপস্থিত হয়েছি। আমি আসলে কিছু বুঝতে পারছি না। আপনি আমাকে খোলসা করে বলুন তো। শোনো তোমার মেয়ের বিয়ের যে বিভ্রাট ঘটেছে সেটার জন্য ওই সামান্য রাধুনি কখনো দায়ী হতে পারে না। সে নির্দোষ। মানে আপনি এসব ঘটনা জানলেন কিভাবে? আর সে যদি নির্দোষ হতো তাহলে খাবারগুলো এমন খারাপ হলো কেন? তোমার ভাইয়ের জন্য তোমার ভাই তোমাকে হিংসা করে। যার কারণে তোমার মেয়ের বিয়ে বন্ধ করবার জন্য এমন কাজ করেছে। কি বলছেন আপনি সাধু বাবা? ও আমার একমাত্র আদরের ছোট ভাই। ও আমার সাথে এমন করতেই পারে না। হিংসা যে কখন কার মনে বাসা বেঁধে থাকে সেটা কেউ টের পায় না।
আমি তোমাকে বলছি তুমি আমাকে বিশ্বাস করো। না আমি বিশ্বাস করতে পারছি না সাধু বাবা। আর যতক্ষণ না আমি কোন প্রমাণ পাচ্ছি ততক্ষণ আমি বিশ্বাস করবো না। বেশ তাহলে আমি তোমাকে প্রমাণ দেব। চলো আমার সাথে। >> আরে সাধু বাবা আসুন আসুন আসুন। আমি তো আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। আপনি যে বললেন না আমার কি কি চাই? >> আমি তো সেই কারণেই এসেছি। তুমি যা চাও তোমাকে তাই দেওয়া হবে। আমি মনে হয় বুঝতে পারছি তুমি আসলে কি চাও। >> আচ্ছা বলুন তো আমি কি চাই? >> তার আগে তুমি বলো তুমি কি চাও? >> আমি পুরো জমিদারিত্ব চাই। আমি চাই ওই জমিদারের সিংহাসন থেকে আমার ভাইকে সরিয়ে দিতে। >> তুমি এমন কেন করতে চাও? তোমাকে তো জমিদারির কিছু অংশ দিয়ে দিয়েছে। >>
কেন নেবো না আমি? কেন ওই অতটুকু জমিদারের অংশ নিয়ে আমি ওর দয়াতে বেঁচে থাকবো? এই জমিদারির জন্য আমি আজ পর্যন্ত বিয়ে করিনি। >> তাহলে আমি ভুল না করলে বিয়ের খাবার তুমি নষ্ট করেছিলে তাই না? >> আপনি একদম ঠিক কথা বলেছেন। ওই বিয়ের খাবারে আমি গোল মরিচের গুড়ো ইচ্ছেমত মিশিয়ে দিয়েছিলাম। ব্যাস যার কারণে অত ঝালে বরপক্ষ পাগল হয়ে গেছিল। >> যাক আমার যা জানবার ছিল তা আমি জেনে গেছি। এবার মহেন্দ্র যা জানবার সেটা মহেন্দ্র জেনে যাবে। >> কেন করলি তুই সুরেন্দ্র? এমন আমার উপরে তোর কিসের রাগ? কিসের এত হিংসা? আমি তো তোকে বলেছিলাম তুই বিয়ে কর। >> আমি কেন বিয়ে করব? কিসের জন্য? আমার জমিদারি নেই। এ বাড়িতে আমার স্ত্রী এলে তাকে কাজের লোকের মত খাটতে হতো। >> তুই ভুল ভাবছিস। আমি তোকে বিয়ে করতে বলেছিলাম বংশধরের জন্য। আমার একটা মাত্র মেয়ে। তাকে বিয়ে দিলে এই জমিদারি কে দেখবে? >> শুধু এইটুকু। এটুকু বলে এতটা কাল তুমি আমার সাথে বেইমানি করেছো দাদা। সব বিষয়ে তুমি কেন এগিয়ে যাবে? >> কারণ আমি ভালো মানুষ। আমি প্রজাদের দুঃখ বুঝি। তুই ভালো না তো। তুই তো বেইমান। এখন বুঝতে পারছি তুই যদি এই গ্রামের জমিদার হতিস তাহলে এই গ্রামের মানুষের কখনো ভালো হতো না। এই জমিদারি পাওয়ার জন্য আমাকে যা করা প্রয়োজন আমি তাই করবো। শুধুমাত্র এই সাধুর জন্য আজকে আমি ধরা পড়ে গেলাম। সাধু বাবা যখন সবকিছু আমাকে খুলে বলেছিল আমি কিচ্ছু বিশ্বাস করিনি।
তবে আজকে আমার চোখের সেই কালো পর্দা সরে গেছে। তুই এখন এই মুহূর্তে এই জমিদার বাড়ি ছেড়ে চলে যাবি। কাজটা তুমি ভালো করলে না দাদা আমি ফিরে আসবো একদিন আমার অধিকার বুঝে নিতে আমি ফিরে আসবোই এবং এই গ্রামের জমিদার হব আমি >> আমাকে ক্ষমা করো ভজহরি আমি আসলে ভুল ভেবেছিলাম ভেবেছিলাম তোমার রান্নায় কোন গাফিলতি হয়েছে >> অবশেষে অবশেষে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হলাম আমার এত বছরের পরিশ্রম সব এক নিমেষে শেষ হয়ে যেত জমিদার মোশাই ভাই >> আমি বুঝতে পারছি ছোটবেলা থেকে এ গ্রামের রান্নাবান্না তুমিই করো। এখানে তোমার মানসম্মান অনেক বড়।
>> আপনি যে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন গ্রামের মানুষ যে জানতে পেরেছে আমি কিছু করিনি এটা আমার জন্য অনেক কিছু। >> আমি তো ভুল করেছিলাম। আমাকে ক্ষমা করে দিও ভজহরী। আজকে থেকে এই জমিদার বাড়ির সমস্ত রান্নাবান্নার দায়িত্ব তোমাকে আর তোমার বউকে দেওয়া হলো। এত বড় দায়িত্ব আমরা পালন করতে পারবো তো আমরা সামান্য রাধুনি গরিব মানুষ >> পারবে না কেন অবশ্যই পারবে আর আজকে থেকে তোমরা তো গরীব নও তোমরা এখন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই জমিদার বাড়িতেই থাকবে সবকিছুই সম্ভব হয়েছে এই সাধু বাবার জন্য সাধু বাবার জয় হোক আপনার কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সাধু বাবা তুমি ঠিক কথা বলেছ ভজ হরি এই সাধু বাবা না থাকলে আজকে এত বড় ষড়যন্ত্রের জাল ফাঁস হতো না। আমি আসল মানুষ চিনতে পারতাম না। না জানি আর কত ক্ষতি হতো আমার। >> আরে ও ভজহরি আবারও সেই গোল মরিচের ঝোল দিয়েছো।
এবার না জানি আবার কোন নদীতে নামতে হয়। >> চিন্তা করবেন না বাবু। এবার স্পেশাল ভাবে বানিয়েছি। এমন গোল মরিচের ঝোল বানিয়েছি মনে হবে না এটা গোল মরিচ দিয়ে বানানো। >> যাক তাহলে আর চিন্তা নেই। নিশ্চিতভাবেই খেতে পারি। সে অত ছাড়াটা কোথায়? জমিদার বাড়ি থেকে তাকে বিতাড়িত করা হয়েছে নাকি? হ্যাঁ প্রতাপ। তুমি চিন্তা করো না। ওটাকে বিদেয় করে দেওয়া হয়েছে। ওটাই তো সব নষ্টের মূল। তবে আমি একটা কথা বুঝতে পারলাম না।
যদি গোল মরিচ মেশানো হয় তবে তো এত ঝাল লাগবার কথা নয়। ঠিক বলেছো। তবে গোল মরিচের সাথে শুধু গোল মরিচ নয় লঙ্কা মেশানো হয়েছিল। গোলমরিচ স্বাদ নষ্ট করবার জন্য। আর লঙ্কা ঝালের জন্য। আপনি আমার চোখ খুলে দিয়েছেন সাধু বাবা। আমি তো মহেন্দ্র জমিদারকে ভুল বুঝে আমার ছেলের জন্য তাকে না করেই দিয়েছিলাম। এবার যখন সবকিছু মিটে গেছে আবার তোমরা এক হয়ে যাও। আশা করছি তোমাদের মধ্যে আর কোন ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না। ভুল বোঝাবুঝি হলেই বাকি হবে। আপনি তো আছেন বাবা। আসুন আসুন একসাথেই খাই। এমনিই মজার মজার গল্প দেখতে আমাদের চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না। আচ্ছা বলতো বন্ধুরা এ গল্পে খাবারের সাথে কি মেশানো হয়েছিল?
বাড়ির বাগানের গোলমরিচ খাওয়া কেন ভালো?
বাড়ির বাগানে উৎপাদিত গোলমরিচ খাওয়ার বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে। এটি শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, বরং স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
১. তাজা ও প্রাকৃতিক
বাড়িতে চাষ করা গোলমরিচ সাধারণত অতিরিক্ত রাসায়নিক বা সংরক্ষণকারী ছাড়াই উৎপাদিত হয়। ফলে এটি বেশি প্রাকৃতিক ও তাজা থাকে।
২. হজমে সাহায্য করে
গোলমরিচে থাকা পাইপেরিন (Piperine) হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে এবং খাবার সহজে হজম হতে সহায়তা করে।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
গোলমরিচে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরকে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
৪. খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করে
তরকারি, স্যুপ, সালাদ বা অন্যান্য খাবারে গোলমরিচ ব্যবহার করলে স্বাদ ও সুবাস বেড়ে যায়।
৫. পুষ্টি শোষণে সহায়ক
গোলমরিচ শরীরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান ও ভিটামিনের শোষণ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
বাড়ির বাগানের গোলমরিচ ব্যবহারের উপায়
* তরকারিতে গুঁড়ো করে ব্যবহার করুন।
* স্যুপ ও সালাদে ছিটিয়ে দিন।
* গরম চা বা ভেষজ পানীয়তে অল্প পরিমাণে যোগ করতে পারেন।
* মাংস, মাছ ও সবজি রান্নায় মসলা হিসেবে ব্যবহার করুন।
FAQ
গোলমরিচ কি প্রতিদিন খাওয়া যায়?
হ্যাঁ, পরিমিত পরিমাণে প্রতিদিন খাওয়া যেতে পারে।
বেশি গোলমরিচ খেলে কি সমস্যা হতে পারে?
অতিরিক্ত খেলে পেট জ্বালা, অস্বস্তি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।
বাড়িতে গোলমরিচ চাষ করা কি কঠিন?
না, উপযুক্ত মাটি, পানি ও আংশিক ছায়াযুক্ত পরিবেশ পেলে গোলমরিচের গাছ ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
শিশুদের গোলমরিচ খাওয়ানো যায়?
অল্প পরিমাণে খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে, তবে অতিরিক্ত ঝাল এড়ানো উচিত।
উপসংহার
বাড়ির বাগানের গোলমরিচ তাজা, সুগন্ধযুক্ত এবং স্বাস্থ্যকর। নিয়মিত ও পরিমিত ব্যবহারে এটি খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি হজম ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে।



0 মন্তব্যসমূহ